ছবি: সংগৃহীতমালয়েশিয়া থেকে চলতি বছরে প্রায় ১০ হাজার মিয়ানমারের নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধান মন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তবে এখন পর্যন্ত ফেরত পাঠানোদের মধ্যে কোনো রোহিঙ্গা ছিল না বলে তিনি জানিয়েছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি তুলবেন আনোয়ার।
মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে তিনি এসব কথা বলেন। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বার্নামা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, জানুয়ারি থেকে প্রায় ১০ হাজার মিয়ানমারের নাগরিককে আকাশ ও সমুদ্রপথে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের কেউ মিয়ানমার সরকারের উদ্যোগে বিমানে এবং প্রায় এক হাজার ৪৭৬ জনকে সম্প্রতি মিয়ানমারের নৌযানে করে ফেরত পাঠানো হয়। এই প্রত্যাবাসন সরাসরি মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার সরকারের আলোচনার ভিত্তিতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে ফেরত পাঠানো এক হাজার ৪৭৬ জনের মধ্যে কোনো রোহিঙ্গা ছিল না বলে পার্লামেন্টে জানান আনোয়ার। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি এখনো আলোচনায় রয়েছে এবং মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়টি তোলা হবে।
মালয়েশিয়ার প্রধান মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে প্রত্যাবাসন চুক্তিতে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আরাকান, কারেন, শান ও রোহিঙ্গারাও রয়েছেন। তার দাবি, যাঁদের ফেরত পাঠানো হয়েছে, তারা সম্মতি দিয়েই দেশে ফিরেছেন।
তবে মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে এই প্রত্যাবাসন নিয়ে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া ব্যক্তিরা নিপীড়ন, সহিংসতা বা জোরপূর্বক সামরিক বাহিনীতে নিয়োগের ঝুকিতে পড়তে পারেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থাও জানিয়েছে, প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্তগুলো সত্যিকার অর্থে স্বাধীন ও অবহিত সম্মতির ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করার সুযোগ তাদের দেওয়া হয়নি।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, মিয়ানমারকে দুটি শর্ত দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, তাদের নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেশে ফেরার পর তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ এবং কোনো নির্যাতন বা অধিকার লঙ্ঘন না করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। মিয়ানমার সরকার, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মিন অং হ্লাইং এ বিষয়ে মালয়েশিয়াকে আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মালয়েশিয়া সফর করবেন। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর তার নেতৃত্বাধীন সামরিক সরকারের সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোর সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামও তার সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলে জানান আনোয়ার।
মালয়েশিয়ায় বিপুলসংখ্যক মিয়ানমারের নাগরিক ও রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছেন। দেশটি জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনের পক্ষভুক্ত নয় এবং শরণার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে তাদের কাজের অধিকার ও আইনি অবস্থান নিয়ে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
পার্লামেন্টে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় দেশের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমেই পরিচালিত হওয়া উচিত। কোন ব্যক্তি যোগ্য বা অযোগ্য, তা কোনো বিদেশি কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।