ছবি: যাযাদি দেশবিরোধী যেকোনো চক্রান্ত ও আগ্রাসী শক্তির কাছে জাতীয়তাবাদী শক্তি কখনো আত্মসমর্পণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায় জাতীয়তাবাদী শক্তি শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করে যাবে।
বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহর পাশে বসার স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, আবরারের বাবা তাকে জানিয়েছেন, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ১৯৯০ সালের রাকসু নির্বাচনে তাকে ভোট দিয়েছিলেন। এ স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, একজন বীর শহীদের পিতা নিজে এসে তাকে ভোট দেওয়ার কথা বলায় তিনি আবেগাপ্লুত হয়েছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তার ভাষায়, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে’ দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল। তার দাবি, এ নতিস্বীকারের বিরুদ্ধে আবরার ফাহাদ সাহসী প্রতিবাদ করেছিলেন এবং সেটিই তার ‘আসল অপরাধ’ ছিল।
রিজভী বলেন, আবরার ফাহাদকে হত্যার মাধ্যমে পুরো জাতিকে ভয় পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ওই হত্যাকাণ্ড মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ আরও বাড়িয়ে দেয়।
তিনি বলেন, আবরারের হত্যাকাণ্ড দেশপ্রেমিক জনগণকে জাগিয়ে তুলেছিল। তার ভাষায়, সেই জাগরণের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ৫ আগস্ট সরকারের পলায়ন।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আন্দোলন ও ত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরে রিজভী বলেন, ছাত্রদল রাজপথে বারবার রক্তাক্ত হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন ধারাকে ধারণ করে সংগঠনটি কোনো গোপন বা ছদ্মবেশী রাজনীতির আশ্রয় নেয়নি। রাজপথে আঘাত সহ্য করেই ছাত্রদল নিজেদের স্বাধীন অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে রিজভী বলেন, ‘বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচগ্র মেদিনী।’ তার মতে, আবরারের আত্মত্যাগ দেশের স্বার্থবিরোধী যেকোনো চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর শিক্ষা দিয়েছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এবং শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা মো. বরকত উল্লাহ।
আলোচনা সভায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।