ছবি: যাযাদিকুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর শহরে একটি কুকুরের কামড় ও আচড়ে শিশু, নারী ও পুরুষসহ অন্তত ৪২ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে শহরের হলবাজার, আমতলা, ইন্দ্রা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় কুকুরটি পথচারীদের ওপর আকস্মিকভাবে হামলা চালায়। এতে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর মাত্র ৪০ মিনিটে ২৬ জন আহত হয়ে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন।
পরে আরও আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আসায় আক্রান্তের সংখ্যা অন্তত ৪২ জনে দাড়ায়। আহতদের মধ্যে শিশু, নারী ও বিভিন্ন বয়সী পুরুষ রয়েছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় ও আঁচড়ের ক্ষত রয়েছে। কেউ পায়ে, কেউ হাতে, আবার কেউ শরীরের অন্য অংশে আক্রান্ত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, আহত ব্যক্তি ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় একটি কুকুর ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই কুকুরটি পথচারীদের ওপর হামলে পড়ে এবং একের পর এক মানুষকে কামড়াতে থাকে। আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই দৌড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
কুকুরটির আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন এলাকা থেকে আহতদের স্বজনরা তাদের কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসতে শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আহতদের ভিড় জমে যায়।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কুকুরের কামড় ও আচড়ে আহত ব্যক্তিদের ক্ষতস্থান সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আক্রান্তদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ১৭ জনকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য আহতদেরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকা দেওয়া হচ্ছে।
আহত রোকন বলেন, শহরের হলবাজার এলাকায় দাড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে একটি কুকুর এসে আমার হাটুতে কামড় দিয়ে দৌড়ে চলে যায়। বিষয়টি এত দ্রুত ঘটেছে যে কিছু বুঝে ওঠার সুযোগই পাইনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ বলেন, সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালে এসে দেখি বিভিন্ন এলাকা থেকে একের পর এক মানুষ কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে আসছেন। এভাবে কুকুরটি মানুষকে কামড়াতে থাকায় এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দ্রুত কুকুরটিকে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের পর আক্রান্তদের দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতস্থান দ্রুত সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে কুকুরটির অবস্থান শনাক্ত ও আটকের জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক থাকতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাভিদ সারওয়ার বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কুকুরটি শনাক্ত ও আটক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে।”
অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত হওয়ায় কুমারখালী শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আক্রান্ত কুকুরটিকে আটক করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে শহরে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।