প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৬ পিএম
ছবি: যাযাদিচট্টগ্রামের পটিয়ায় স্ত্রীকে পরকীয়ায় জড়ানোর অভিযোগে প্রতিবাদ করায় এক প্রবাসী স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বসতঘরের তালা ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী বিকাশ চৌধুরী। এসব ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা বিকাশ চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর সাতকানিয়া উপজেলার ধর্মপুর এলাকার প্রমা চৌধুরীর সঙ্গে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনের সাড়ে তিন বছর পর তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী প্রতিবেশী অশোক দাশের (৩৫) সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়েছেন।
বিকাশ চৌধুরীর দাবি, বিষয়টি জানার পর পরিবারের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ছয় মাস আগে স্ত্রীকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। ওই সময় প্রমা চৌধুরী এক ভরি এক আনা স্বর্ণ সঙ্গে নিয়ে যান। বাবার বাড়িতে যাওয়ার পর থেকে তিনি স্বামী ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন বলে অভিযোগ করেন বিকাশ।
সংবাদ সম্মেলনে বিকাশ চৌধুরী আরও অভিযোগ করেন, পরকীয়ার ঘটনায় শুধু তার সংসারেই অশান্তি সৃষ্টি হয়নি, অশোক দাশের পরিবারেও বিরোধ দেখা দিয়েছে। চলতি বছরের ২০ মার্চ অশোকের স্ত্রী রিখা বৈদ্য ও বোন পম্পী দাশ প্রমার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে প্রতিবাদ জানালে সেখানে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে অশোকের পরিবারও পরকীয়ার বিচারের দাবিতে পটিয়া থানায় অভিযোগ দেয় বলে জানান তিনি।
বিকাশের অভিযোগ, গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রমা চৌধুরী ও অশোক দাশ তার বসতঘরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরে থাকা নগদ ৫০ হাজার টাকা ও এক ভরি চার আনা স্বর্ণালংকার নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক ঘর দখলের চেষ্টা করেন। তিনি এসব ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন বিকাশ।
এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন দাবি করে বিকাশ চৌধুরী চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার, অভিযোগের তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিকাশ চৌধুরীর বাবা বিশ্ব চৌধুরী, ভাই আশিষ চৌধুরী ও আশিষের স্ত্রী সুমি চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।