সোনাদিয়ায় ৭ হাজার একর দখল, ৮২ চিংড়িঘের উচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন

মহেশখালী প্রতিনিধি

সারাদেশ

কক্সবাজারের মহেশখালীর প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সোনাদিয়া দ্বীপে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা চিংড়িঘের উচ্ছেদ ও দখল করা ভূমি পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে

2026-10-07T19:55:53+06:00
2026-10-07T19:55:53+06:00
বৃহস্পতিবার ● ৮ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
সোনাদিয়ায় ৭ হাজার একর দখল, ৮২ চিংড়িঘের উচ্ছেদে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন
মহেশখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৫ পিএম  
ছবি: যাযাদি
কক্সবাজারের মহেশখালীর প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সোনাদিয়া দ্বীপে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা চিংড়িঘের উচ্ছেদ ও দখল করা ভূমি পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দ্বীপের অবৈধ বাঁধ ও স্লুইসগেট অপসারণ এবং দখল করা ভূমি পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে দেওয়ার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গত তিন আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-চার শাখা থেকে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপসচিব উম্মে কুলসুম ফেরদৌসীর স্বাক্ষর করা সরকারি চিঠিতে সোনাদিয়া দ্বীপ ও সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত বাধ ও স্লুইসগেট দ্রুত অপসারণের কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের চিঠি অনুযায়ী, ‘স্ট্রেনদেনিং ক্যাপাসিটি অব এমওইএফসিসি, ডিওই অ্যান্ড বিএফডি ফর ন্যাচারাল রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইমপ্রুভড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ভূমি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

তবে নৌবাহিনী কবে থেকে উচ্ছেদ ও ভূমি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু করবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সূচি জানা যায়নি।

স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোনাদিয়া দ্বীপের প্রায় সাত হাজার একর ভূমি অবৈধভাবে দখল করে ৮২টি চিংড়িঘের গড়ে তোলা হয়েছে। এসব ঘের তৈরিতে প্যারাবন কেটে বাধ নির্মাণ এবং পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে একাধিক স্লুইসগেট স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে।

এতে প্রাকৃতিক জোয়ার-ভাটার পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সোনাদিয়ার প্যারাবন ও উপকূলীয় প্রতিবেশব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশবাদীরা।

সোনাদিয়া দ্বীপ দেশের গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় প্রতিবেশব্যবস্থার একটি অংশ। প্যারাবন উপকূলকে জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত থেকে সুরক্ষার পাশাপাশি মাছসহ বিভিন্ন জলজ ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে সোনাদিয়ার দখল ও প্যারাবন ধ্বংস বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন পরিবেশকর্মীরা।

সরকারের সর্বশেষ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, ‘সোনাদিয়ার প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় দখলদারদের উচ্ছেদে নৌবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়ায় আমরা স্বস্তি প্রকাশ করছি।’

তিনি বলেন, সোনাদিয়ার প্যারাবন রক্ষায় আর কালক্ষেপণের সুযোগ নেই। দ্রুত উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে অবৈধ বাঁধ ও স্লুইসগেট অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে যারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ও পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমি দখল করে চিংড়িঘের গড়ে তুলেছেন, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

পরিবেশবাদীদের মতে, শুধু অবৈধ স্থাপনা ও চিংড়িঘের উচ্ছেদ করলেই হবে না। উদ্ধার করা ভূমিতে প্যারাবন পুনঃস্থাপন এবং ভবিষ্যতে যাতে আবার দখল না হয়, সে জন্য কার্যকর নজরদারিও নিশ্চিত করতে হবে।
  বিষয়:   কক্সবাজার  মহেশখালী  সোনাদিয়া  প্যারাবন 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত