প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৮ পিএম
ছবি: যাযাদিসিলেটের ওসমানীনগরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। গত দুই দিনে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ১২ কেজি ওজনের একটি সিলিন্ডার এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তারা। এতে রান্নার গ্যাস নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বুধবার (৭ অক্টোবর) উপজেলার তাজপুর, গোয়ালাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং স্থানীয় ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয়ভাবে প্রচারিত তথ্য অনুযায়ী, বিইআরসি নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা মূল্য এক হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে ওসমানীনগরের বিভিন্ন বাজারে একই সিলিন্ডার এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত, কোথাও কোথাও এর চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে এলপিজির সরবরাহ কম থাকার সুযোগ নিয়ে কোনো কোনো ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। কেউ কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হঠাৎ রান্নার গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের মধ্যে সিলিন্ডার গ্যাসের অতিরিক্ত মূল্য তাদের সংসার ব্যয়ে নতুন চাপ তৈরি করেছে। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবারকে বাড়তি টাকা দিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।
স্থানীয় ভোক্তারা বলেন, এলপিজি গ্যাসের বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকায় এক শ্রেণির ব্যবসায়ী নিজেদের মতো করে দাম নির্ধারণের সুযোগ পাচ্ছেন। এতে সরকারি নির্ধারিত মূল্য কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে।
সচেতন নাগরিকরা বলেন, এলপিজি গ্যাস মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অন্যতম। এ পণ্যের মূল্য নিয়ে কারসাজি বা কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাই উপজেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে বিভিন্ন বাজারে দ্রুত অভিযান এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন।
তারা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি, মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বাজারে এলপিজির স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।