আণবিক ‘দর্পণ রূপের’ রহস্য ভেঙে রসায়নে নোবেল পেলেন কাগান ও সোয়াই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

অণুর ‘দর্পণ রূপ’ বা মিরর ইমেজ নিয়ে দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক রহস্যের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি পেলেন ফরাসি রসায়নবিদ অঁরি বি কাগান

2026-10-07T17:34:20+06:00
2026-10-07T17:34:20+06:00
বৃহস্পতিবার ● ৮ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
আন্তর্জাতিক
আণবিক ‘দর্পণ রূপের’ রহস্য ভেঙে রসায়নে নোবেল পেলেন কাগান ও সোয়াই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৪ পিএম  
ছবি: সংগৃহীত
অণুর ‘দর্পণ রূপ’ বা মিরর ইমেজ নিয়ে দীর্ঘদিনের বৈজ্ঞানিক রহস্যের সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি পেলেন ফরাসি রসায়নবিদ অঁরি বি কাগান ও জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোয়াই। অ্যাসিমেট্রিক অর্গানিক সিন্থেসিসে নন-লিনিয়ার ইফেক্টস ও অটো-ক্যাটালাইসিস আবিষ্কারের জন্য যৌথভাবে ২০২৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তাঁরা। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস বুধবার এ পুরস্কার ঘোষণা করে।

নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের গবেষণা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট মিরর-ইমেজ বা প্রতিবিম্ব রূপকে অন্যটির তুলনায় বেশি পরিমাণে তৈরি করার নতুন পথ দেখিয়েছে। এই কাজ ওষুধ, স্বাদ-গন্ধ, সুগন্ধি এবং নতুন উপকরণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

আণবিক ‘দর্পণ রূপ’ কী

রসায়নে কিছু অণু এমনভাবে গঠিত হয়, যাদের দুটি রূপ দেখতে একে অপরের আয়নার প্রতিবিম্বের মতো। কিন্তু একটি রূপকে অন্যটির ওপর পুরোপুরি বসানো যায় না। অণুর এই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় ‘কাইরালিটি’। সহজভাবে বোঝাতে বিজ্ঞানীরা মানুষের ডান ও বা হাতের উদাহরণ দেন। দুটি হাত দেখতে প্রায় একই হলেও একটির ওপর অন্যটি পুরোপুরি মেলানো যায় না।

এ ধরনের অণুর দুটি রূপকে এনানশিওমার বলা হয়। সাধারণ রাসায়নিক সংশ্লেষণে অনেক ক্ষেত্রে দুটি রূপ প্রায় সমান পরিমাণে তৈরি হয়। কিন্তু জীবজগতে চিত্রটি ভিন্ন। অ্যামিনো অ্যাসিডসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ জৈব অণুতে দুটি সম্ভাব্য রূপের মধ্যে নির্দিষ্ট একটি রূপই প্রাধান্য পায়। এই অসমতা কীভাবে তৈরি হলো, তা দীর্ঘদিন ধরে রসায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল।

অরি বি কাগানের গবেষণা অ্যাসিমেট্রিক সংশ্লেষণে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট মিরর-ইমেজের আধিক্য তৈরি করার নতুন সম্ভাবনা দেখায়। তার কাজের মাধ্যমে রসায়নবিদেরা এমন বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পান, যেখানে দুটি সম্ভাব্য প্রতিবিম্ব রূপের একটি অন্যটির তুলনায় বেশি তৈরি করা যায়। নোবেল কমিটির মতে, এই আবিষ্কার ওষুধ, ফ্লেভার, সুগন্ধি ও নতুন উপকরণ তৈরির রসায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কেনসো সোয়াই এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া উদ্ভাবন করেন, যেখানে শুরুতে সামান্য এক ধরনের মিরর-ইমেজের আধিক্য থাকলেও সেই অণুই পরবর্তী বিক্রিয়াকে প্রভাবিত করে নিজের একই রূপের আরও অণু তৈরিতে সহায়তা করে। ফলে সামান্য প্রাথমিক অসমতা ধীরে ধীরে বড় আকার ধারণ করতে পারে।

এ ঘটনাই অটো-ক্যাটালাইসিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। নোবেল কমিটির বর্ণনা অনুযায়ী, সোয়াই এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়ার নকশা করেছিলেন যেখানে সম্ভাব্য দুই মিরর-ইমেজের মধ্যে কেবল একটি নির্দিষ্ট রূপ তৈরি হয়। তার এই কাজ অ্যাসিমেট্রিক অর্গানিক সিন্থেসিসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রকৃতিতে জীবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অণুগুলোর ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মিরর-ইমেজের আধিপত্য দেখা যায়। গবেষণাগারে সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যেখানে দুই রূপই তৈরি হতে পারে, সেখানে জীবজগতে কেন একটি রূপ প্রাধান্য পেল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে।

কাগান ও সোয়াইয়ের কাজ দেখিয়েছে, রাসায়নিক ব্যবস্থায় খুব সামান্য প্রাথমিক অসমতাও কীভাবে অটো-ক্যাটালাইসিস ও নন-লিনিয়ার প্রভাবের মাধ্যমে বড় আকারের অসমতায় পরিণত হতে পারে। এই ধারণা পৃথিবীতে জীবনের বিকাশের শুরুর পর্যায়ে রাসায়নিক অসমতা কীভাবে তৈরি হতে পারে, সেই বৃহত্তর প্রশ্ন বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

অঁরি বি কাগান ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি প্যারিস-সুদের সঙ্গে যুক্ত এবং কেনসো সোয়াই টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৬ সালের রসায়নে তাদের এই যৌথ স্বীকৃতি অ্যাসিমেট্রিক অর্গানিক সিন্থেসিসের মৌলিক ধারণাকে নোবেল পুরস্কারের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দিল।
  বিষয়:   নোবেল পুরস্কার  রসায়ন  অঁরি কাগান  কেনসো সোয়াই 


আন্তর্জাতিক- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত