শ্রমিক অধিকার ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সরকারের অগ্রাধিকার: মাহ্দী আমিন

যাযাদি রিপোর্ট

জাতীয়

শ্রমিকের অধিকার রক্ষা, উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান

2026-10-07T19:11:13+06:00
2026-10-07T19:11:13+06:00
বৃহস্পতিবার ● ৮ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
জাতীয়
শ্রমিক অধিকার ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সরকারের অগ্রাধিকার: মাহ্দী আমিন
যাযাদি রিপোর্ট
প্রকাশ: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১১ পিএম  
ছবি: যাযাদি
শ্রমিকের অধিকার রক্ষা, উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

বুধবার সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব এম্প্লয়ার্স (আইওই)-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা, মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং কার্যকর সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠা সরকারের মূল অগ্রাধিকার। পাশাপাশি মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শ্রমশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

বৈঠকে ইপিজেডের অর্থনৈতিক ভূমিকা ও কর্মসংস্থানের ধারাবাহিকতায় স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখতে সার্বজনীন আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।

শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় আইটিইউসি ও আইওইর মতো আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সরকার একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চায় বলে জানান মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, শ্রমিক ও মালিক পক্ষের স্বার্থ একে অপরের পরিপূরক। শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাশাপাশি এগিয়ে যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, শিল্পভিত্তিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় সংলাপ এবং কার্যকর সামাজিক অংশীদারত্বের কোনো বিকল্প নেই।

সফররত প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার, শ্রমিক ও নিয়োগকর্তাদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অর্জন ও ভবিষ্যৎ পথনকশা নির্ধারণে সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার শ্রমিক কল্যাণ, মানসম্মত কাজ এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনির্বাচিত সরকার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বাংলাদেশ শ্রম আইন যুগোপযোগী করে সংশোধন করেছে। একই সঙ্গে শ্রম অধিকার ও সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলও কনভেনশন ১৫৫, ১৮৭ ও ১৮৯ অনুমোদন করেছে।

শ্রম প্রশাসনকে আরও দক্ষ ও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সব পক্ষের সঙ্গে কার্যকর সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

মাহ্দী আমিন বলেন, বর্তমানে সরকারের প্রধান লক্ষ্য দ্রুত বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন করে সংশোধিত শ্রম আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা। এর মাধ্যমে সরকারের প্রতিটি অঙ্গীকারকে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে বাস্তব ও দৃশ্যমান উন্নয়নে রূপান্তর করা হবে।

বৈঠকে আইটিইউসি ও আইওইর প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের শ্রম খাতে সাম্প্রতিক সংস্কারমুখী বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুততর করা, শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদ প্রমুখ।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন আইটিইউসির জেনারেল সেক্রেটারি লুক ট্রায়াঙ্গল, আইওইর ভাইস-চেয়ার কাইজার মোয়ানে, আইএলও গভর্নিং বডির সদস্য জেস ভোগট এবং আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনুনসহ সংশ্লিষ্টরা।
  বিষয়:   শ্রমিক অধিকার  কর্মসংস্থান  মাহ্দী আমিন  শ্রম মন্ত্রণালয় 


জাতীয়- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত