প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩২ পিএম

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০২০-এর জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) অর্থনীতি বিষয়ের প্রভাষক হেলাল উদ্দিন। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রেখে ফ্যাকাল্টি ফার্স্ট হওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এ সম্মানজনক পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
গত ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তিন শিক্ষাবর্ষের দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬৯ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। চূড়ান্ত সেই তালিকায় ২০২০ শিক্ষাবর্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ থেকে শীর্ষস্থান অর্জনকারী হিসেবে হেলাল উদ্দিনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হেলাল উদ্দিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। উভয় পরীক্ষায় তিনি ৪.০০ সিজিপিএ-এর মধ্যে ৩.৯৩ পেয়ে পুরো সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে প্রথম (ফ্যাকাল্টি ফার্স্ট) স্থান অধিকার করেন। এর আগেও তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতিত্বের জন্য ‘ইউজিসি মেরিট স্কলারশিপ-২০২০’ অর্জন করেন। এছাড়া তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই মেধার ধারাবাহিকতা ছিল লক্ষণীয়৷ স্কুলজীবনে ৮ম ও দ্বাদশ শ্রেণিতে তিনি ট্যালেন্টপুলে বোর্ড বৃত্তি লাভ করেন।
গত বছর জাবিপ্রবির অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন হেলাল উদ্দিন। এর আগে তিনি দেশের বিভিন্ন নামকরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সফলতার সাথে শিক্ষকতা করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা গ্রামের সন্তান। তাঁর বাবা নুরুল হুদা ও মা শামসুন নাহার।
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগপ্লুত হেলাল উদ্দিন বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ! মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০২০ অর্জন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও আপ্লুত। এই গৌরব শুধু আমার একার নয়। এই অর্জনের পেছনে রয়েছে আমার বাবা-মায়ের দোয়া, আমার সকল শিক্ষক, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সহযোগিতা। আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি আমার প্রাণের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সকল শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দকে, যাঁদের হাত ধরেই আমার আজকের এই পথচলা। আজ আমি সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী, যেন জ্ঞান অর্জন ও বিতরণের মাধ্যমে দেশের সেবা করতে পারি।"
ইউজিসি সূত্রে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রেরিত প্রাথমিক আবেদনপত্রগুলো নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাধ্যমে খসড়া তালিকা পুনরায় চূড়ান্ত প্রমাণের পর এই ৪৬৯ জন শিক্ষার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।