চাকরির সুযোগ বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে তিন বিশেষ কোর্স

যাযাদি রিপোর্ট

শিক্ষা

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারের জন্য আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিষয়ভিত্তিক কোর্সের পাশাপাশি তিনটি

2026-10-08T16:58:29+06:00
2026-10-08T16:58:29+06:00
বৃহস্পতিবার ● ৮ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
শিক্ষা
চাকরির সুযোগ বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে তিন বিশেষ কোর্স
যাযাদি রিপোর্ট
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম  
ছবি: যাযাদি
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারের জন্য আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিষয়ভিত্তিক কোর্সের পাশাপাশি তিনটি বিশেষ দক্ষতা উন্নয়নমূলক কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোর্স তিনটি হলো তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কর্মসংস্থানযোগ্য দক্ষতা এবং নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বৃহস্পতিবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘টেকসই উন্নয়নের জন্য একাডেমিয়া ও শিল্পের মধ্যে সেতুবন্ধন: গবেষণার উৎকর্ষ, উদ্ভাবন ও শিল্পায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান।

অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করলেই একজন শিক্ষার্থীর চাকরির বাজারে সফল হওয়া নিশ্চিত নয়। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, চাকরির প্রস্তুতি, যোগাযোগ দক্ষতা, পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতার মতো বিষয়েও শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যেই আগামী জানুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কর্মসংস্থানযোগ্য দক্ষতা এবং নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব- এই তিনটি বিশেষ কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব কোর্স শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি আধুনিক কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উচ্চশিক্ষা ত্বরান্বিতকরণ ও রূপান্তর প্রকল্পের (হিট) অধীনে কোর্সগুলো চালু করা হবে।

ড. মামুন বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতের আধুনিকায়নের পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, শিল্প ও একাডেমিয়ার মধ্যে সহযোগিতা এবং শিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আরও বেশি সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা হলে তারা দেশীয় চাকরির বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও নিজেদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পারবে। তৃতীয় ভাষায় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারে বাংলাদেশের তরুণদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে দেশ-বিদেশে দ্রুত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তরুণদের জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মমুখী উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে ইউজিসি সদস্য বলেন, তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকার বিভিন্ন কর্মমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং শিল্পখাতের চাহিদার সমন্বয় ঘটানোই এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, সরকারের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটেও তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তি খাতে প্রতি বছর দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টার্টআপ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা জিডিপির প্রায় দুই শতাংশ। আগামী পাচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধীরে ধীরে জিডিপির পাচ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ইউজিসি সদস্য বলেন, তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে তৈরি না করে চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্ভাবন কেন্দ্র, উদ্যোক্তা বিকাশ কেন্দ্র, স্টার্টআপ পরিবেশ এবং শিল্পখাতের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ‘উদ্যোগ- উপজেলাভিত্তিক তরুণদের প্রবৃদ্ধির সুযোগ’ কর্মসূচি চালু করেছে। এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করে অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও বাজারসংযোগের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অধ্যাপক ড. মামুন বলেন, এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা তাঁদের প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পেতে পারেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো জামানত ছাড়াই এ অর্থায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও বাজারসংযোগেও সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত করা নয়; তাদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারে, নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক মান নিশ্চয়তা সেল (আইকিউএসি) আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী।

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
  বিষয়:   বিশ্ববিদ্যালয়  ইউজিসি  দক্ষতা উন্নয়ন  কর্মসংস্থান 


শিক্ষা- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত