ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির ২০ নেতাকর্মী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’।

2026-10-14T11:29:04+06:00
2026-10-14T11:29:04+06:00
বুধবার ● ১৪ অক্টোবর ২০২৬
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
আন্তর্জাতিক
ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির ২০ নেতাকর্মী আটক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৯ এএম  
ছবি: সংগৃহীত
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। এদিকে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রায় ২০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের মধ্যে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করায় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রায় ২০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সিজেপির দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দলের নেতা আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাস ও অজিঙ্ক শিন্ডে রয়েছেন। এর আগে সোমবার দিল্লি পুলিশ জানায়, রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত যন্তর মন্তরকে আনুষ্ঠানিক বিক্ষোভের স্থান হিসেবে আর ব্যবহার করা যাবে না। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, প্রতিরোধের চেতনাকে কখনো বাতিল করা যায় না।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলতি মাসজুড়ে বিক্ষোভ করে আসছে সিজেপি ও বিরোধী দলগুলো। বিরোধীদের অভিযোগ, সংশোধনের নামে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, এর ফলে বিশেষ করে সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নির্বাচনি সুবিধা পাচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, ভুলবশত যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তারা পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।

এদিকে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সংসদ সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন থামবে না, আরও গতিশীল হবে।

বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সোনিয়া গান্ধী, কে সি ভেনুগোপাল ও জয়রাম রমেশসহ বিরোধী দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন আরজেডির তেজস্বী যাদব ও মনোজ ঝা, সিপিএমের এম এ বেবি, সিপিআইয়ের ডি রাজা, এনসিপি (এসপি)-এর সুপ্রিয়া সুলে, তৃণমূলের সাগরিকা ঘোষসহ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা।

বৈঠক শেষে তেজস্বী যাদব অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের ভয়ে প্রশাসন যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের সুযোগ সীমিত করেছে। তিনি প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’ এবং স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগও তোলেন। গণতন্ত্র রক্ষায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের দাবি, গত চার দিনে সাধারণ মানুষ ও তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ভোটার তালিকা নিয়ে তাদের উদ্বেগের প্রতিফলন। অন্যদিকে তৃণমূলের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সাগরিকা ঘোষ অভিযোগ করেন, জ্ঞানেশ কুমার দায়িত্বে থাকলে দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন কঠিন হবে। তার দাবি, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে ভোট কারচুপি হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।

আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দীপকে পুলিশের বিরুদ্ধে আটকপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আটক করা হয়েছে। তাদের ফোন জব্দ ও ডিভাইস ক্লোন করার চেষ্টার অভিযোগও করেন তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের আইনি পথ নিয়ে কথা বলেছেন কংগ্রেস নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর। তার বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে সংসদে তাঁকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট এবং তা সংসদে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার শর্তসাপেক্ষ। এ প্রক্রিয়াকে সাধারণ রাজনৈতিক ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবের সঙ্গে এক করে দেখা যায় না।

সূত্র: রয়টার্স
  বিষয়:   ভারত  রাজনীতি  জ্ঞানেশ কুমার  রাহুল গান্ধী 


আন্তর্জাতিক- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত