প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
মরুভূমির ‘সাম্মাম’ চাষে হুমায়ূনের বাজিমাত -যাযাদিমরুভূমির বিরূপ আবহাওয়ার সুস্বাদু ও জনপ্রিয় ফল ‘সাম্মাম’ এখন ফলছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার মাটিতে। শখের বশে ঘেরের পাড়ে সাম্মাম চাষ করে এলাকায় দারুণ সাড়া ফেলেছেন বুড়াইচ ইউনিয়নের শিয়ালদি গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. হুমায়ুুন আহম্মেদ (৩৪)। সামান্য খরচে চোখ ধাধানো সাফল্য ও ভালো দাম পেয়ে তিনি এখন সফলতার নতুন স্বপ্ন বুনছেন। হুমায়ুুন আহম্মেদ ওই গ্রামের মো. আজিজার রহমান মোল্যার ছেলে।
জানা যায়, গত জুন মাসে খুলনার একটি দোকান থেকে মাত্র ৩৫০ টাকায় ১০ গ্রাম ‘সাম্মাম’ বীজ সংগ্রহ করেন। নিজের ঘেরের পাড়ে মাত্র তিন শতাংস জমিতে বীজ রোপণ করে বাশ ও নাইলনের সুতা দিয়ে তৈরি করেন মাচা বা জাংলা। মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই লতানো গাছের জাংলায় ঝুলতে শুরু করে কাঙ্ক্ষিত ফল। বীজ সংগ্রহ, মাচা তৈরি ও আনুষঙ্গিক মিলিয়ে তার মোট খরচ হয়েছিল ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হুমায়ুন আহম্মেদের মাচায় অগণিত সাম্মাম ঝুলছে। দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়। হালকা বাতাসে দুলতে থাকা এই ফলের কোনোটির ওজন এক কেজি, আবার কোনোটি দুই থেকে আড়াই কেজি পর্যন্ত।
স্থানীয় বাজারে রসালো ও মিষ্টি এই ফলের ব্যাপক বেশ রয়েছে। প্রতি কেজি সাম্মাম বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা দরে। ইতোমধ্যে হুমায়ুুন আহম্মেদ ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন এবং মাচায় যা ফল রয়েছে, তাতে আরো আট থেকে ১০ হাজার টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি। দেখতে অনেকটা বেল বা বাতাবি লেবুর মতো হলেও এর ভেতরের অংশ রসালো বাঙ্গির মতো সুমিষ্ট ও সুবাসিত।
উদ্যোক্তা হুমায়ুুন আহম্মেদ বলেন, ‘প্রথমবার শখের বশে অল্প জমিতে চাষ করেছি। ফলন ও বাজারদর দুটোই বেশ ভালো। আগামী মৌসুমে ২০ শতাংশ জমিতে বাণিজ্যিকভাবে সাম্মাম চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
আলফাডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার তুষার সাহা বলেন, ‘মরুর ফল সাম্মাম চাষ করে তরুণ উদ্যোক্তা হুমায়ুুন আহম্মেদ একটি সম্ভাবনাময় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছি।’