মধুমতীর ভাঙনে বিলীনের পথে মোল্লাহাটের চিত্র

ন্যাশনাল

এম এম মফিজুর রহমান, মোল্লাহাট (বাগেরহাট)বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় মধুমতী নদীর অব্যাহত ভাঙনে ক্রমেই অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে নদী তীরবর্তী জনপদ। নদীগর্ভে

2026-10-26T00:00:00+06:00
2026-10-25T22:15:22+06:00
সোমবার ● ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
ন্যাশনাল
মধুমতীর ভাঙনে বিলীনের পথে মোল্লাহাটের চিত্র
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম  আপডেট: ২৫.১০.২০২৬ ১০:১৫ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
এম এম মফিজুর রহমান, মোল্লাহাট (বাগেরহাট)
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় মধুমতী নদীর অব্যাহত ভাঙনে ক্রমেই অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে নদী তীরবর্তী জনপদ। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, বসতভিটা ও রাস্তাঘাট। ভাঙনে ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নতুন করে ঝুকির মুখে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা, কবরস্থান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

অন্যদিকে, নদীর নাব্যতা সংকট ও নৌপথের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। এ পরিস্থিতিতে মধুমতির ভাঙন রোধে স্থায়ী বাধ নির্মাণ, ঝুকিপূর্ণ এলাকা সুরক্ষা এবং নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন চললেও কার্যকর ও টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছরই নতুন নতুন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক পরিবার হারিয়েছে কৃষিজমি ও বসতভিটা। ভাঙন অব্যাহত থাকলে আরো বহু পরিবারকে ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হতে পারে। এ অবস্থায় সোনাপুরা, চর আটজুড়ী, গিরিশনগর, গাড়ফা, উদয়পুর, আস্তাইল ও সিঙ্গাতী গ্রামকে ভাঙন প্রতিরোধের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
মধুমতি নদীর ভাঙন এখন শুধু বসতবাড়ি ও কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি এলাকার শিক্ষা, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের জন্যও হুমকি হয়ে উঠেছে। নদীগর্ভে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হওয়ার পর অবশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, শিক্ষকদের কর্মপরিবেশ এবং স্থানীয় শিশুদের শিক্ষার সুযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভাঙন ঠেকানো না গেলে বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে বহু পরিবার জীবিকা সংকটে পড়বে। একই সঙ্গে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হলে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জরুরি সেবা গ্রহণেও দুর্ভোগ বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের মতে, বালুর বস্তা ফেলা কিংবা বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নদীর স্রোত, তীরের মাটির গঠন ও ভাঙনের ধরন বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত ও টেকসই নদীতীর সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মোল্লাহাটের ইউএনও সুমনা আইরিন বলেন, ‘বিষয়টি আমি এবং আমাদের ডিসি স্যার অবগত আছেন। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।’

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল জানান, ‘মোল্লাহাটের গাড়ফা বাজার ও সোনাপুরা অংশের নদীভাঙন রোধে ১৪২০ মিটার (প্রায় দেড় কিলোমিটার) বাধ নির্মাণের একটি প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হয়েছে।’

ন্যাশনাল- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত