প্রকাশ: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৫.১০.২০২৬ ১০:১৬ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
রংপুর-দিনাজপুর মহাড়কের সংস্কারের সাত দিন যেতে না যেতেই উঠে গেছে পিচ —যাযাদি রংপুরে দুর্গা পূজা পরিদর্শন উপলক্ষে প্রধান মন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে রংপুর-দিনাজপুর মহাড়কের রংপুর নগরীর অংশে তড়িঘড়ি সংস্কারের সাত দিন যেতে না যেতে সেটি বিভিন্ন স্থানে আক্রান্ত হয়েছে। উঠে গেছে সড়কের পিচ ও ভেঙে গুড়া হয়েছে নতুন বসানো সিমেন্টের ব্লক। কোথাও সৃষ্টি হয়েছে গর্ত, কোথাও ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে সড়কের উপরিভাগ। এখন সেই একই অংশে আবারো চলছে সংস্কার কাজ। এতে সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও চালকদের প্রশ্নের পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয় নিয়ে উঠেছে অভিযোগ।
রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়কের পাগলাপীর থেকে মেডিকাল মোড় পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশের মধ্যে প্রায় দুই কিলোমিটারে এমন চিত্র দেখা গেছে। গত ২০ অক্টোবর দুর্গোৎসব পরিদর্শনে প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের রংপুর সফরকে কেন্দ্র করে আগের চার দিন ধরে মহাসড়কের শতাধিক ভাঙাচোরা অংশ মেরামত করা হয়েছিল। পুরোনো ইটের পাটাতন তুলে সেখানে নতুন সিমেন্টের ব্লক বসিয়ে তার ওপর দেয়া হয় পিচের প্রলেপ।
তড়িঘড়ি করা ওই সংস্কারের স্থায়িত্ব নিয়ে তখনই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা, চালক ও পথচারীরা। কয়েকদিনের মধ্যেই তাদের আশঙ্কা বাস্তবে রূপ নেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কার করা কয়েকটি অংশে নতুন বসানো ব্লক ভেঙে গেছে। কোথাও পিচের প্রলেপ উঠে গিয়ে আগের মতো খানা খন্দে তৈরি হয়েছে। সেসব জায়গায় আবারো মেরামতের কাজ চলছে। ফলে একই সড়কের একই অংশে অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার সংস্কার করতে হচ্ছে। এতে কাজের মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের ১৭ কিলোমিটার সংস্কারের কাজ ২৬ কোটি ৮৯ লাখ ৫৯ হাজার ৯৪৬ টাকায় পায় রাজশাহীর ডন এন্টারপ্রাইজ। ওই বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশে ডিবিএসটি পদ্ধতিতে সংস্কার কাজ করা হয়। তবে কাজের মান নিয়ে তখনই প্রশ্ন ওঠে।
সেসময় টহলরত সেনা বাহিনীর একটি দল সড়কের প্রতি বর্গমিটারে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে পাচ কেজি পাথর কম ব্যবহারের বিষয়টি শনাক্ত করে। এতে প্রায় ৩৬৫ টন পাথর কম ব্যবহার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন ওই দলটি। সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার আগেই সড়কের কার্পেটিং উঠে বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হয়। পরে গর্তগুলো ইট দিয়ে ভরাট করায় যান চলাচলে দুর্ভোগ আরো বেড়েছে।
রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নাজিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এই মহাসড়কের নগরীর সিও বাজার থেকে তিন হাজার ২০০ ফিট আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে আবার সংস্কার করে যানবাহ চলাচলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।