প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৫.১০.২০২৬ ৬:৩৭ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করছে অপ্রাপ্ত বয়সী শিশুরা —ফাইল ছবি সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ইটভাটায় শ্রমিকদের সঙ্গে শিশুদেরও কাজে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার সুযোগে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের ইটভাটায় নেয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অগ্রিম টাকা বা ‘দাদন’ নেয়ার পর কোনো শিশু কাজ করতে না পারলে কিংবা বাড়ি ফিরতে চাইলে তাকে পায়ে শিকল দিয়ে আটকে রেখে জোরপূর্বক কাজ করানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শ্রমিকেরা ইটভাটায় কাজ করতে যান। ভাটার সর্দারেরা শ্রমিকদের অগ্রিম টাকা দিয়ে দলবদ্ধভাবে বাসে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইট ভাটায় কাজে নিয়ে যান। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে দাদনের বিনিময়ে কাজে পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে।
একটি ইটভাটায় সাধারণত ২০ থেকে ২৫ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। শ্রমিকদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু থাকলে শিশুশ্রমের বিষয়টি সামনে এনে কিছু রাজনৈতিক পরিচয়ধারী ব্যক্তি বাস ছাড়ার আগে সর্দারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব ঘটনায় কারা জড়িত, কি পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয় এবং অভিযোগের সত্যতা কতটুকু— তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী, ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুকে কাজে নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্যদিকে, সংবিধানের ৩৪ অনুচ্ছেদে জবরদস্তিমূলক শ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দাদনের অজুহাতে শিশু বা শ্রমিককে আটকে রেখে জোরপূর্বক কাজ করানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা গুরুতর আইনগত অপরাধের বিষয় হতে পারে।
শিশুশ্রম বন্ধ, দাদনের নামে শ্রমিকদের জিম্মি করে রাখার অভিযোগ তদন্ত এবং বাস ছাড়ার আগে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট শ্রম কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দারিদ্র্যের কারণে কোনো শিশুর শিক্ষাজীবন যেন থেমে না যায় এবং কোনো শ্রমিক যেন দাদনের দায়ে জোরপূর্বক শ্রম দিতে বাধ্য না হন—এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।