প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৫.১০.২০২৬ ৯:৪৬ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
প্রায় পাচ বিঘা বিস্তৃত বনভূমিতে শত শত গাছ কেটে ফেলা হয়েছে - যাযাদিটাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রাকৃতিক শাল-গজারির বন উজাড়ের অভিযোগ উঠেছে। দোখলা রেঞ্জের সদর বিট চুনিয়া দক্ষিণ-পূর্ব ফেকামারি জামবাইদ এলাকায় প্রায় পাচ বিঘা বিস্তৃত বনভূমিতে পুরনো শাল ও গজারি শত শত গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের পর দিন প্রকাশ্যে গাছ কেটে বনভূমি উজাড় করা হচ্ছে। পরে এসব জমি দখল করে বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষাবাদ করছেন বন উজাড়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা। এদের নেপথ্যে রয়েছেন মো. খোকন মিয়া, ময়েজ উদ্দিন ও আজমত আলী। তারা হরিণধরা গ্রামের বাসিন্দা হলেও বনের পাশেই বাড়ি ভারা করে বসবাস করে প্রতিনিয়ত বনের গাছ কেটে সাফ করে জমি দখল করছেন।
তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান, ‘আপনারা শধু আমাদের জায়গাটুকু চোখে দেখেন? আরো এরূপ বহু গাছ কেটে দখল করছে সেটা তো দেখেন না।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারিকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে এসব গাছ কাটা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বনভূমির মধ্যে কাটা গাছের গোড়া ও আশপাশে পড়ে থাকা শুকনো ডালপালা দেখা যায়। পুরনো গাছ কেটে ফেলার ফলে প্রাকৃতিক বনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বনভূমির গাছ কাটার পাশাপাশি জমি দখল করে চাষাবাদের প্রবণতাও বাড়ছে।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ওই এলাকার বন কাটার বিষয়ে তারা অবগত আছেন এবং এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
টাঙ্গাইল জেলা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল আলম বলেন, ‘ইতোমধ্যে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে ওখান থেকে সরানো হয়েছে। ছবিসহ তথ্য পাঠান, সঠিক তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’