প্রকাশ: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৬.১০.২০২৬ ৯:৪০ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
মাগুরায় সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া গ্রামে ব্যক্তিগত অর্থায়নে তৈরি হচ্ছে ৭৩ হাত দীর্ঘ বাইচের নৌকা - যাযাদিমাগুরার নিভৃত পল্লীতে এক সুবিশাল বাইচের নৌকা নির্মাণকে কেন্দ্র করে উৎসুক মানুষের কৌতুহল ও আনন্দের জোয়ার বইছে। সদর উপজেলার কুচিয়ামোড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক অরুন চন্দ্র বিশ্বাসের (৪৬) ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে তৈরি হচ্ছে ৭৩ হাত দীর্ঘ এই বাইচের নৌকা। স্থানীয় আমুড়িয়া বাজারের এই চিকিৎসক তার বাড়ির পাশে, মাগুরা জেলা শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে নিভৃত কটকি নদীর তীরে একটি আকাশমনি বাগানে সুবিশাল এই নৌকাটি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। নৌকাটির নামকরণ করা হয়েছে ‘জয় মা দুর্গা’। অরুন চন্দ্র বিশ্বাস ওই গ্রামের জগদীশ চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে।
মাগুরায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের নৌকা বাইচকে ঘিরে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছেন এই পল্লী চিকিৎসক। নিজের শখ, এলাকাবাসীর উৎসাহ এবং নৌকার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকে তিনি নির্মাণ করছেন বিশাল এই বাইচের নৌকা।
জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে এই দৃষ্টিনন্দন বাইচের নৌকা তৈরির কাজ শুরু হয়। আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে গলুই নির্মাণ ও নান্দনিক রঙের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন কারিগররা।
নৌকাটি তৈরিতে খরচ ও উপকরণের দিক থেকেও রাখা হয়েছে বিশেষ নজর। মাগুরা ও যশোর জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানসম্মত সেগুন ও লোহাকাঠ সংগ্রহ করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় চার লাখ ৩০ হাজার টাকা। কারিগরদের মজুরি বাবদ লাগছে আরো ৮০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে এই বাইচের নৌকাটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে মোট ব্যয় হবে পাচ লক্ষাধিক টাকা। বিশাল আকৃতির এই নৌকায় এক সঙ্গে ৬৫ থেকে ৬৮ জন বাইচার বসে বৈঠা টানতে পারবেন।
শুক্রবার সকাল ৮টার সময় সরেজমিন দেখা গেছে, নৌকার ভেতরের অংশে কেউ আলকাতরা লেপন করছেন, কেউ পুটিং দিচ্ছেন। দূর-দূরান্তের অনেক মানুষ দেখতে এসেছেন সেখানে।
উদ্যোক্তা অরুন চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘স্থানীয়দের উৎসাহ ও নিজের ভালোলাগা থেকেই অত্র অঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই বাইচের নৌকাটি গড়ার উদ্যোগ নিই।’