প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৯.১০.২০২৬ ৯:১০ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
সউদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলা এবং মিডল ইস্টের চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশি যাত্রীরা। প্রাপ্ত তথ্য মতে, ঢাকা থেকে গত আট দিনে বাতিল বা স্থগিত হয়েছে ১১৮টি ফ্লাইট। এতে আটকা পড়েছে ১৮ হাজার ৩৬২ জন যাত্রী। গত রবিবার বেবিচক জানিয়েছে, বাতিল বা স্থগিত ফ্লাইটের মধ্যে ৫২টি সরাসরি এবং ৬৬টি ট্রানজিট ফ্লাইট। সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৯টি, ইউএস-বাংলার এয়ারলাইন্সের ১০টি, সউদিয়া এয়ারলাইন্সের ১৩টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি রয়েছে। অন্য দিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইনডিয়ার ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের যাত্রীরা। তাদের ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ছয়টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর আগে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে হুথিদের ড্রোন হামলায় সউদি আরবের আভা এয়ারপোর্টে একটি বাণিজ্যিক বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মিডল ইস্টের সংঘাতে দাম্মামসহ ছয়টি রুটে বিমান ফ্লাইট স্থগিত করেছিল, তবে তখন রিয়াদ ও জেদ্দা এয়ারপোর্ট চালু ছিল। এবার সউদির দুই প্রধান প্রবেশদ্বার রিয়াদ ও দাম্মাম এক সঙ্গে বন্ধ হওয়ায় প্রভাব অনেক বেশি। রিয়াদ ও দাম্মামের পথ বন্ধ থাকায় যাত্রীদের বড় অংশ জেদ্দা ও মদিনার টিকেটের দিকে ঝুকছে।
ফ্লাইট বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্টেও। যাত্রীদের চিরচেনা ভিড়, স্বজনদের অপেক্ষা আর গাড়ির দীর্ঘ সারি-কিছুই নেই আগের মতো। অনেকটাই ফাকা হয়ে পড়েছে এয়ারপোর্টের আগমন ও বহির্গমন টার্মিনাল। তবে ভিসা ও চাকরি হারানোর শঙ্কায় কেউ কেউ বিকল্প রুটে সউদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করছে। সেখানেও স্বস্তি নেই। বেড়েছে টিকেটের ভাড়া। সউদি আরবেরও একই চিত্র। দেশটি থেকে দেশে ফিরতে পারছে না হাজার হাজার বাংলাদেশি প্রবাসী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে যাত্রী ভোগান্তি আরো বাড়বে।
রিয়াদ-দাম্মামের মতো প্রধান রুট বন্ধ থাকলে যাত্রীর চাপ জেদ্দা ও মদিনায় গিয়ে পড়ে। ফলে টিকেটের ভাড়া বাড়ার ঝুকি তৈরি হয়। এয়ারলাইন্সগুলোর উচিত, বাতিল টিকেটের অর্থ ফেরত বা তারিখ পরিবর্তনের সুবিধা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানানো। পাশাপাশি বিকল্প রুটে অতিরিক্ত ভাড়া যেন অযৌক্তিকভাবে না বাড়ে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বেবিচকেরও নজরদারি প্রয়োজন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য দেয়াই সবচেয়ে জরুরি।
সউদি আরবে হুথিদের একের পর এক হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ বাড়ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। বাংলাদেশিদের জীবন-জীবিকা যেমন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে, তেমনি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে দেশের শ্রম বাজার ও রেমিটান্স প্রবাহ নিয়েও।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর বড় একটি অংশ আসে সউদি আরব থেকে। দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থে চলে অসংখ্য পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়, পাশাপাশি সমৃদ্ধ হয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। ফলে সউদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং ফ্লাইট শিডিউল বিপর্যয় ও ভোগান্তি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।