প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ১৯.১০.২০২৬ ১০:৩১ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)

দুই সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিলেন নাহিদুর রহমান তুহিন। সমুদ্রের নৈসর্গিক শোভা উপভোগ করে অবস্থান করছিলেন উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্ট্রো এন্ড রিসোর্টে। ১৮ অক্টোবর দুপুরে তাদের রিসর্ট ছাড়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে গেছে পরিবারটি। এক সঙ্গে চারটি প্রাণ এভাবে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাওয়ায় তুহিনের গ্রামের বাড়ি যশোরের মণিরামপুর পৌর শহরের মোহনপুরে চলতে শোকের মাতম। হঠাৎ এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না তার পরিবার।
তুহিন ঢাকার শ্যামলীতে গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। পরিবার নিয়ে তিনি রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় বসবাস করতেন। স্বজনরা জানান, তুহিন টুপটুপ রেস্ট্রো এন্ড রিসর্টে বুকিং দিয়েছিলেন ১১ অক্টোবর। ১৬-১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসর্টের একটি কক্ষ বুকিং দেয়া হয়। রিসর্টটি ছাড়ার কথা ছিল ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায়। তার আগে শনিবার সকালে রিসর্টে আগুন লাগে। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১০ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। নিহত ১০ জনের মধ্যে ছয় জনের পরিচয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কোনটি কার লাশ, সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিখোজ তুহিনের বড় ভাই জাহিদুর রহমান বলেন, ‘আগুনের খবর পাওয়ার পর থেকে ছোট ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও দুই ভাতিজির আর কোনো খোজ মিলছে না। তারা আগুনে পুড়ে যাওয়া অজ্ঞাতপরিচয়ের লাশগুলোর মধ্যে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে তিনি সিলেট থেকে কক্সবাজারে পৌছেছেন। তুহিনের ফুফু রোকসানা আক্তার রূপালী কাদতে কাদতে বলেন, ‘আমার বাজান মারা গেছে, আমি বিশ্বাস করি না। আমার বাজানের ফুটফুটে দুটি সন্তানও ছিল। ওরা যখন গ্রামে আসত; তখন আনন্দ উল্লাসে মাতিয়ে রাখত সারা বাড়ি।’