কর্নেল মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া ভূমিকা : বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় সেনা বাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। তাই পেশাদার ও দক্ষ সেনা বাহিনীর গুণাবলির যথাযথ সংমিশ্রণ অপরিহার্য। ‘এক জন পেশাদার সৈনিকের প্রথম গুণ হলো- আনুগত্য, দ্বিতীয়টি শৃঙ্খলা এবং তৃতীয়টি হলো- সাহসিকতা। তবে এসব কিছুর উর্ধ্বে হলো- তার নৈতিক স্বচ্ছতা’। -ফিল্ড মার্শাল ফিলিপ চ্যাটউড (তার বিখ্যাত চ্যাটউড মটোর ভাবার্থ)। অর্থাৎ ‘নৈতিকতা ও পেশাদারত্ব’ উভয়ই যে কোনো সামরিক বাহিনীর ক্ষেত্রে অপরিহার্য। বাংলােেশর সশস্ত্র বাহিনীর জন্ম হয়েছে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে। যেটা এনে দিয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা। একটি নতুন দেশ। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনী তথা সেনা বাহিনী দেশ গঠন, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দেশের যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে সব সময় জনগণের পাশে ছিল।
নৈতিকতা ও পেশাদারত্বই আস্থা, কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি। তাই স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাশে সেনা বাহিনী তার পেশাদারত্ব এবং নৈতিকতার সংমিশ্রণে কতটুকু সফল হয়েছে এবং ফলশ্রুতিতে জনগণের কতটুকু আস্থা অর্জন করতে পেরেছে, তাই এই প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য।
নৈতিকতা ও পেশাদারত্ব : সামরিক নৈতিকতা বলতে আমরা বুঝি, সততা, জবাবদিহিতা, আনুগত্য ও শৃঙ্খলা। আবার এই গুণাবলি শুধুমাত্র ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সামনে বা শাস্তির ভয়ে অনুশীলন করা প্রকৃত নৈতিকতা নয়। বরং, সবার অগোচরে নিজ থেকেই আন্তরিকতার সঙ্গে এই গুণাবলির চর্চা করাই নৈতিকতা। সামরিক প্রেক্ষাপটে পেশাদারত্ব বলতে বুঝি- যোগ্যতা, অরাজনৈতিক অবস্থান এবং চেইন অফ কমান্ড মেনে চলা। পেশাগত জ্ঞান অর্জন এবং এর সঠিক প্রয়োগ যোগ্যতার পরিচায়ক। পাশাপাশি আধুনিকতা এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেকে প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের সামরিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ : বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর জন্ম একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে, যেটা একই সঙ্গে যেমন এ দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, তেমনি বাংলাশে সেনা বাহিনীকে এ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে চির অম্লান করে রেখেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে তৎকালীন বাংলাদেশি সেনা নেতৃত্ব তাদের পেশাদারত্বের চরম উৎকর্ষতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অধীনস্তদের যেমন সঠিক দিকনির্শেনা দিতে পেরেছিল, তেমনি তার সঠিক নৈতিক অবস্থানের কারণে তাদের নেতৃত্বে আস্থা রেখে অধীনস্ত জওয়ান ও আপামর জনগণ জীবনকে তুচ্ছ করে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে এবং প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর নেতৃত্বে পেশাদারত্ব এবং নৈতিকতা বিচ্যুতি কখনো দেখা যায়নি। যার ফলে বাংলাদেশের জনসাধারণ দেশের স্বার্থ রক্ষায় এখনো তার শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে সেনা বাহিনীকে বিশ্বাস করে এবং এই বাহিনীর প্রতি আস্থা রেখে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে। দেশের যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে সেনা বাহিনী নির্মোহভাবে জনগণের পাশে এসে দাড়িয়েছে এবং জনগণের আত্মরক্ষার মূল্যায়ন করেছে, যেটা একটি নৈতিক এবং পেশাদার নেতৃত্বসম্পন্ন সেনা বাহিনীর পরিচায়ক।
নেতৃত্বে নৈতিকতার ভূমিকা : সিদ্ধান্ত গ্রহণে যখন নৈতিক দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, তখন সঠিক পথ বেছে নেয়াই এক জন প্রকৃত নেতার প্রধান পরীক্ষা। শান্তিকালীন নয়, বরং সংকট মুহূর্তে এক জন নেতা কি সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাই নৈতিকতার নির্ধারক। সেনা বাহিনী প্রয়োজনে শক্তি ও ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকে। তাই এই ক্ষমতা প্রয়োগের সঠিক মাত্রা, অর্থাৎ ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগ বা অপপ্রয়োগের সীমারেখা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেটা এক জন কমান্ডারের নৈতিক অবস্থানের পরিচায়ক। সৈনিক তার জীবনকে তুচ্ছ করে তার কমান্ডারের আদেশ মান্য করে। তাই কমান্ডারকে হতে হয় তার অধীনস্তদের প্রতি মানবিক এবং ন্যায় বিচারক।
বাংলাশে সেনা বাহিনী প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে অধীনস্ত সদস্যদের কল্যাণ, জীবনমান, আর্থিক নিরাপত্তা, আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন এবং কমান্ডার ও অধীনস্তদের পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার মাধ্যমে সদস্যদের আত্মমর্যাদা ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফলে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর নেতৃত্বের প্রতি সেনা সদস্যদের আস্থা, দায়িত্ববোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক আনুগত্য আরো সুদৃঢ় হয়েছে।
সামরিক পেশাদারত্বের নিয়ামক : পেশাদারত্বের একটি অন্যতম উপাদান হলো- দক্ষতা, যেটা অর্জন করতে হয় প্রশিক্ষণ বা শিক্ষার মাধ্যমে। পেশাগত জ্ঞান এক জন কমান্ডারের একটি অপরিহার্য গুণাবলি। সঠিক পেশাগত জ্ঞান থাকলেই এক জন কমান্ডার সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে, আর সেটা অর্জন করতে হয় ক্রমাগত জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে। সামরিক শৃঙ্খলায় নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য এবং চেইন অফ কমান্ড অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি পেশাদার সেনা বাহিনী রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে শুধু দেশের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করবে।
সিভিল-মিলিটারি সম্পর্ক ও জনআস্থা : একটি গণতান্ত্রিক দেশের সেনা বাহিনী হবে জনগণের সেনা বাহিনী। তাদের প্রথম দায়িত্ব হবে- নিজ দেশের জনগণের সেবা করা, সেটা যুদ্ধ ক্ষেত্রেই হোক আর শান্তিকালেই হোক। সেই অর্থে বাংলাশে সেনা বাহিনীর নীতিবাক্য যথার্থ হয়েছে, ‘সমরে আমরা, শান্তিতে আমরা, সর্বত্র আমরা দেশের তরে’। এই নীতি বাক্যটি সেনা বাহিনীর যুদ্ধকালীন বীরত্ব, শান্তিকালীন অবদান এবং দেশের প্রয়োজনে যে কোনো পরিস্থিতিতে আত্মত্যাগের মানসিকতাকে ফুটিয়ে তোলে। বাংলাদেশের মতো একটি বিকাশমান গণতান্ত্রিক দেশে সেনা বাহিনীর উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় একটি পেশাদার সেনা বাহিনী গঠনে জনমত সৃষ্টিতে এবং জনগণের আস্থা অর্জন করতে সিভিল-মিলিটারি সম্পর্ক একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।
একটি দেশের সেনা বাহিনীর জনবল, দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত উচ্চমানের সক্ষমতা থাকে, যেটা সে শান্তিকালীন সময় সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে যে কোনো দুর্যোগকালীন মুহূর্তে জনসাধারণের কষ্ট লাঘব করতে পারে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর ভূমিকা দৃষ্টান্তমূলক। বাংলাদেশ সেনা বাহিনী বন্যা, জলোচ্ছ্ব্াস, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিধস, ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড, নদী ভাঙন, খরা, করোনা বা অন্যান্য মহামারি ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, পুনর্বাসন, মেরামত এবং বিনামূল্যে মেডিকাল সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দুর্গতদের সেবা প্রদান করে সাধারণ জনগণের মধ্যে আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ : প্রথাগত যুদ্ধের পাশাপাশি বাংলাশে সেনা বাহিনীর জন্য বেশ কিছু আধুনিক ও অপ্রথাগত চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। অরাষ্ট্রীয় শক্তির উত্থান এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি স্বার্থের অপতৎপরতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ডিজিটালাইজড ব্যবস্থাকে সাইবার হ্যাকিংসহ সেনা বাহিনী বা রাষ্ট্রীয় তথ্য চুরির চেষ্টা থেকে সুরক্ষা দেয়া জরুরি। এ ছাড়া তথ্য-যুদ্ধ ও প্রোপাগান্ডার অংশ হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সেনা বাহিনী বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, সোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে সেনা বাহিনীর মনোবল ভেঙে দেয়া এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করার অপচেষ্টা থেকে নিরাপদ থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের মতো একটি বহুবিধ সমস্যা সংবলিত দেশে সেনা বাহিনীর জন্য দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও শিক্ষণীয় দিক : উন্নত দেশসমূহ সামরিক বাহিনীতে নৈতিকতা কঠোরভাবে চর্চা করে, যেটা আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিক আইন মেনে চলে। এই নৈতিকতা চর্চার মূল উদ্দেশ্য হলো- যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও মানবিক মর্যাদা রক্ষা করা এবং অপ্রয়োজনীয় সহিংসতা কমানো। আমেরিকা বা নেটো বাহিনীর সৈনিকরা সামরিক অভিযানে ‘রোলস অফ এনগেজমেন্ট’ বা যুক্ত হওয়ার নিয়ম বা আইন অনুসরণ করে। এ ছাড়া আমেরিকার ওয়েস্ট পয়েন্ট মিলিটারি একাডেমি বা বৃটেনের স্যান্ডহার্স্ট রয়্যাল মিলিটারি একাডেমিতে সৈনিকদের শুধু অস্ত্র চালনাই শেখানো হয় না, বরং যুদ্ধের নৈতিকতা, ‘জাস্ট ওয়ার থিওরি’ বিষয়ে পাঠ দেয়া হয়।
বাংলাশে সেনা বাহিনী জাতি সংঘের অধীনে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পৃথিবীর বিভিন্ন উন্নত দেশের সেনা বাহিনীর সঙ্গে কাধে কাধ মিলিয়ে দীর্ঘদিন যাবত দায়িত্ব পালন করছে। সেখানে সত্যিকারের সশস্ত্র যুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করে আন্তর্জাতিক মানের সামরিক নৈতিকতার জ্ঞান অর্জন এবং চর্চা করে থাকে। জাতি সংঘের অধীনে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশসমূহে শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতাই বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর আন্তর্জাতিক মানের সামরিক নৈতিকতার উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ।
নেতৃত্ব উন্নয়নে সুপারিশ : বাংলাশে সেনা বাহিনীর নেতৃত্বে পেশাদারত্বের পাশাপাশি নৈতিকতার মান সমুন্নত রাখা এবং উত্তরোত্তর উন্নতির জন্য নিম্নলিখিত পক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে, প্রশিক্ষণে নৈতিকতা ও নেতৃত্ব উন্নয়ন-বিষয়ক পাঠদান আরো জোরদার করা, দায়িত্ব পালনে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা আরো বৃদ্ধি করা, প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষা আরো অধিক হারে অন্তর্ভুক্ত করা, নেতৃত্বে মেধা, পেশাদারত্ব ও নৈতিকতাকে আরো বেশি অগ্রাধিকার দেয়া এবং পরিবার ও সামাজিক মূল্যবোধের আরো উন্নয়ন ঘটানো।
উপসংহার : বাংলাশে সেনা বাহিনী তার জন্মলগ্ন থেকে নৈতিকতা, পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে জনসাধারণের আস্থা ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। শুধুমাত্র সামরিক দক্ষতা নয়, বরং সততা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, জবাবদিহিতা এবং সাংবিধানিক আনুগত্যের সমন্বয়ই বাংলাদেশ সেনা বাহিনীকে জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলাদেশ সেনা বাহিনী স্বাধীনতা যুদ্ধ ও পরবর্তী সময় জাতীয় নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে তার নৈতিক ও পেশাদার নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্ব ব্যবস্থা, প্রযুক্তি-নির্ভর যুদ্ধ, তথ্য-যুদ্ধ, সাইবার হুমকি এবং অভ্যন্তরীণ-বাহ্যিক বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনা বাহিনীকে আরো আধুনিক, জ্ঞান-ভিত্তিক ও নৈতিকভাবে দৃঢ় হতে হবে। নৈতিকতা ও পেশাদারত্বের এই যুগপৎ চর্চা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ সেনা বাহিনী ভবিষ্যতেও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক, জনগণের আস্থার শেষ আশ্রয়স্থল এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি সম্মানিত ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে।
কর্নেল মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া : বিজিবিএম, পিএসসি সেক্টর কমান্ডার, সেক্টর সদর দফতর, ঠাকুরগাঁও।