প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২০.১০.২০২৬ ১০:৫০ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)

অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসের জন্ম ও বেড়ে ওঠা বগুড়ায়। মা-বাবা, ভাইবোন এবং আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে বড় পরিবারের মধ্যে কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর। পরিবারের সবার সঙ্গে আনন্দে কাটানো সেই দিনগুলো ছিল জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
পরে মুভির জগতে পা রেখে ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন ঢালিউডে। এক সময় দর্শকের কাছে পরিচিতি পান ‘ঢালিউড কুইন’ হিসেবে। তবে স্টারখ্যাতি আর ব্যস্ততার মাঝেও বগুড়ার সেই দিনগুলোর স্মৃতি ভুলে যাননি তিনি।
দুর্গা পূজা এলেই বগুড়ায় কাটানো শৈশবের দিনগুলোতে ফিরে যান অপু বিশ্বাস। নতুন জামা পরে সকালে প্রতিমা দেখতে যাওয়া, মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো আর বাড়ি ফিরে মায়ের হাতের রান্না উপভোগ করা- সব মিলিয়ে ছোটবেলার পূজা ছিল তার কাছে অন্য রকম আনন্দের।
পূজার স্মৃতিচারণা করে অপু বিশ্বাস বলেন, ‘পূজা মানেই আনন্দ। সময়ের সঙ্গে সেই আনন্দ-উদযাপনের ধরন কিছুটা বদলেছে, কিন্তু নিঃশেষ হয়নি। এখন দুর্গা পূজায় ষষ্ঠী থেকে দশমীর সময়ে বগুড়ার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। কি যে এক উচ্ছ্বাস, উল্লাসের ছিল সেই দিনগুলো, তা বলে শেষ করা যাবে না।’
শৈশবে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে পূজার আনন্দে মেতে উঠতেন অপু। বাবা-মা, কাকা-কাকিসহ সবার উপস্থিতিতে উৎসবের দিনগুলো হয়ে উঠত আরো রঙিন। নতুন পোশাকে প্রতিমা দর্শন, বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘুরে বেড়ানো আর বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো- সবকিছুতেই ছিল অন্য রকম উচ্ছ্বাস।
অপুর শৈশবের পূজার স্মৃতিতে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে মহাষ্টমীর ভোগ। খিচুড়ি, লাবড়া ও বিভিন্ন পদের ভাজা ছিল তার ভীষণ প্রিয়। পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে বসে ভোগ খাওয়ার সেই মুহূর্তগুলোও ছিল উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ। খাবারের স্বাদের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল মায়ের স্নেহ আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো আনন্দঘন সময়।
জীবনের বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অপু বিশ্বাস এখন ঢালিউডের প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী। অভিনয়ের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছেন মুভি প্রযোজনায়ও। ‘লাল শাড়ি’ মুভির মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। সর্বশেষ অপু বিশ্বাস অভিনয় করেছেন ‘শিকার’ মুভিতে। নেপালে হয়েছে মুভিটির শুটিং। কাজের ব্যস্ততা ও স্টারখ্যাতির বাইরে দুর্গা পূজা এলে বগুড়ার সেই দিনগুলোই যেন তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় শৈশবের উঠানে, যেখানে পরিবারের ভালোবাসা আর উৎসবের আনন্দ মিশে আছে অমলিন স্মৃতিতে।