প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৩.১০.২০২৬ ৪:৪৭ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
ভোলার চরফ্যাশনে বেতুয়া লঞ্চ ঘাট —যাযাদি ভোলার চরফ্যাশন বেতুয়া-ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচলে মালিকপক্ষের রোটেশন পদ্ধতির গ্যাড়াকলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে রোটেশন পদ্ধতির আইনি ভিত্তি জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে এ পদ্ধতি বাতিল করে স্বাভাবিক ও প্রতিযোগিতামূলক যাত্রী সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
জানা যায়, বেতুয়া-ঢাকা নৌপথে দৈনিক তিনটি কম্পানির এমভি কর্ণফুলী, এমভি টিপু ও এমভি তাসরিফ লঞ্চ চলাচলের জন্য বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী রুট পারমিট নেয়া হয়েছে। শুরুতে কয়েক মাস নির্ধারিত সময়সূচি মেনে লঞ্চ চলাচল করলেও পরবর্তীতে মালিক পক্ষের পারস্পরিক সমঝোতায় রোটেশন পদ্ধতি চালু করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত দৈনিক লঞ্চ চলাচলের সময়সূচি উপেক্ষা করে মালিক পক্ষ নিজেদের সুবিধামতো এই রোটেশন পদ্ধতি চালু করেছে। এর ফলে একেক দিন একটি কোম্পানির লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। এতে যাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের অধিকার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তি বাড়ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি- দেশের প্রচলিত কোনো আইন, বিধিমালা বা সরকারি আদেশের ভিত্তিতে এ পদ্ধতি চালু করা হয়ে থাকলে তা প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় অবিলম্বে এ ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে। তাদের ভাষ্য, লঞ্চ মালিকদের ব্যবসা করার অধিকার থাকলেও সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে রাখার অধিকার কারো নেই। নদীপথে যাতায়াত সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও অনিয়মের কারণে এ রুটে কাঙ্ক্ষিত যাত্রীসেবা নিশ্চিত হচ্ছে না।
চরফ্যাশন পৌরসভার বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিনের সিডিউলে তিন কম্পানির লঞ্চ আসা-যাওয়ার কথা থাকলেও সে আইন তারা মানছেন না। রোটেশন পদ্ধতি কি যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার জন্য করা হয়েছে, নাকি যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরির জন্য?’
অন্য দিকে লঞ্চ মালিক পক্ষের দাবি, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ভোলা-বরিশাল হয়ে সড়কপথে ঢাকায় যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। এতে নৌপথে যাত্রী কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। ফলে লঞ্চ পরিচালনায় লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ লোকসান এড়াতেই রোটেশন পদ্ধতি চালু রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।