প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৩.১০.২০২৬ ৪:৪৮ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
যশোরের যৌন পল্লীতে জন্ম জাহিদ হাসানের (ছদ্মনাম)। মা নাজমা খাতুন (ছদ্মনাম) বাবু বাজার যৌন পল্লীর বাসিন্দা। জাহিদের বয়স পাচ বছর। কিন্তু জন্ম নিবন্ধন হয়নি। একই অবস্থা পিয়াস আহম্মেদের (ছদ্মনাম)। আট বছর বয়স হলেও তার এখনও জন্ম নিবন্ধন হয়নি। তার মা ছালমা আক্তারও (ছদ্মনাম) বাবু বাজার যৌন পল্লীর বাসিন্দা। শুধু জাহিদ বা পিয়াস নয়; যশোরের দুটি যৌন পল্লীতে প্রায় ৩০ শিশু রয়েছে, যাদের জন্ম নিবন্ধন সম্ভব হচ্ছে না। জন্ম নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংকটে এই নিবন্ধন সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
যশোরের বড় বাজারে দুটি যৌন পল্লী রয়েছে। একটি মাড়োয়ারি মন্দির পতিতালয়; অন্যটি বাবুবাজার পতিতালয়। দুই যৌন পল্লীর পাচটি গলির বাসিন্দার সংখ্যা দুই শতাধিক। এর মধ্যে যৌনকর্মীর সংখ্যা ১২০ জন। এদের অনেকেরই নেই জন্ম নিবন্ধন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র। ফলে তাদের সন্তানদের জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। জন্ম নিবন্ধন প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ যেসব কাগজপত্র ও নিয়মকানুনের কথা বলেন, তা সমাজের এই অবহেলিত-নিগৃহীত জনগোষ্ঠীর পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব হয় না। ফলে রাষ্ট্রীয় সেবাপ্রাপ্তির জন্য অত্যাবশ্যকীয় এই জন্ম নিবন্ধন থেকে বছরের পর বছর বঞ্চিত হচ্ছে তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যশোরের মাড়োয়ারি ও বাবু বাজার যৌনপল্লীর বাসিন্দাদের প্রায় ৩০টি সন্তান রয়েছে যাদের জন্ম নিবন্ধন করা সম্ভব হয়নি। এদের অধিকাংশেরই মায়ের জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। এছাড়া পিতারও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সংকট রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এদের জন্ম নিবন্ধনের সুযোগ নেই। বিশেষ প্রক্রিয়ায় জন্ম নিবন্ধনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় যেসব কাগজপত্র বা মেডিকাল সার্টিফিকেট প্রয়োজন তাও জোগাড় করা সমাজের এই অবহেলিত-নিগৃহীত জনগোষ্ঠীর পক্ষে প্রায় অসম্ভব। ফলে এই শিশুরা জন্ম নিবন্ধনহীনভাবে অনিশ্চিত ভবিষ্যত সামনে নিয়ে বড় হচ্ছে।
যশোরে যৌনকর্মীদের অধিকার নিয়ে কাজ করে উন্নয়ন সংস্থা বঞ্চিতা যশোর। বঞ্চিতার নির্বাহী পরিচালক নূর নাহার রানু বলেন, ‘এই শিশুরা যেহেতু জন্মগ্রহণ করেছে, তাই তাদের জন্ম নিবন্ধন পাওয়ার অধিকার আছে।’
বঞ্চিতা যশোরের সভাপতি মমতাজ বেগম জানান, তারা এই শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন। প্রশাসনের সহযোগিতায় কিছু কিছু শিশুর জন্ম নিবন্ধন হয়েছে। তবে এখনো প্রায় ৩০টি শিশু রয়েছে, যাদের জন্ম নিবন্ধন সম্ভব হয়নি।
জন্ম নিবন্ধনের দায়িত্বে থাকা যশোর পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তম কুমার কুন্ডু বলেন, ‘জন্ম নিবন্ধনের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জন্ম নিবন্ধন যেহেতু খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি স্থায়ী বিষয়। এজন্য কাগজপত্রের এই আইনগত বাধ্যবাধকতা প্রতিপালনও জরুরি।’