প্রকাশ: রোববার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৪.১০.২০২৬ ১০:১৭ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
নিজ বাড়ির বারান্দার সিড়িতে চুপচাপ বসে ছিলেন সুচিত্রা রানী বিশ্বাস (৪২)। কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে কয়েকজন বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে কাচি দিয়ে মাথার চুল কেটে দেন। পরে সমস্ত শরীরে মরিচের গুড়া মাখিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার বিকালে পরকিয়ার অভিযোগ তুলে তাকে এভাবেই নির্যাতন করা হয়। শুক্রবার বিকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার করোতিপাড়া গ্রামে গিয়ে সুচিত্রার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। সুচিত্রা ওই গ্রামের মনমত বিশ্বাসের স্ত্রী। মনমত পেশায় ইজিবাইক চালক।
সুচিত্রা রানী বিশ্বাসের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার বিকেলে তার স্বামী কাজে ছিল। তিনি বাড়িতে কাজ করছিল। এমন সময় পাশের নসায়নপুর গ্রামের রসিদ নামের এক ব্যক্তি বাড়িতে এসে আনোয়ার নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। সুচিত্রা অভিযোগ অস্বীকার করলে আরো চার জন বাড়িতে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে একজন বলে আনোয়ারের সঙ্গে তোর সম্পর্ক রয়েছে বলেই চুলের মুঠি ধরে মারধর শুরু করে। এ সময় সুচিত্রা পরনের কাপড়ও ধরে টানাহেচড়া করা হয়।
সুচিত্রা বলেন, এসময় আনোয়ারের স্ত্রী ব্যাগ থেকে কাচি বের করে এবং অন্যরা তাকে ধরে রাখলে ওই নারী তার মাথার চুল কেটে দেয়। তাকে মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে পোশাক টেনে খুলে ফেলে আবারো ব্যাগ থেকে একটি বড় প্যাকেট বের করে তার শরীরে ঝালের গুড়া মাখিয়ে দিয়ে তারা চলে যায়। পরে রাতে স্বামী বাড়িতে ফিরলে সুচিত্রা তাকে ঘটনাটি জানায়। পরে স্বামীর পরামর্শে তারা সদর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করে।
স্থানীয়দের দাবি, আনোয়ার দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে থাকেন না। তিনি শহরে থাকেন এবং গ্রামেও তেমন আসেন না। ফলে সুচিত্রার সঙ্গে তার সম্পর্কেও অভিযোগের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, ওই নারী বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এখনও কেউ গ্রেফতার নেই। তদন্ত চলছে জানান ওসি।