প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
প্রতি ভ্যান আগাছা ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি করা হয় —যাযাদিমধুপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
আগাছা! যার নাম শুনলেই মনে হয় এটা কোন কাজে আসে না। যা আবর্জনা বা ময়লার ভাগারে স্থান করে নেয়ার কথা। কিন্তু না এসব আগাছা বিক্রি করেই এখন চলছে মধুপুরের পাহাড়িয়া অঞ্চলের শতাধিক পরিবারের সংসার। মধুপুরের পাহাড়ি অঞ্চল আনারসের রাজধানী হিসেবে সারা দেশেই পরিচিত।
লাল মাটির এ পাহাড়ে রয়েছে আনারস, কলা, পেপে, আদা, হলুদসহ বাহারি সব ফল ফসলের আবাদ। এসব ফসলের সঙ্গে আপনা আপনি জন্মে থাকে নানা জাতের আগাছা ও ঘাস। নানা রকম ফল ফলাদি যেমন বিক্রি হয় তেমনি ওইসব ঘাস ও আগাছাও বিক্রি হয় ভালো দামে। কেননা ওই সব ফল ফলাদিকে নষ্ট পিষ্টের হাত হতে স্বচ্ছ ও পরিপুষ্ট হিসেবে গন্তব্যে নিতে ওই আগাছা বা ঘাস দিয়ে মুড়িয়ে সযত্নে গাড়িতে রাখা হয়।
আগাছা বিক্রেতা মোমিনপুর গ্রামের শামছুল আলম জানান, সে জ্যৈষ্ঠ মাসে থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত আগাছা বিক্রি করে থাকে। সে প্রতি ভ্যান ৩শ থেকে সাড়ে ৪শ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এ কাজে তার সন্তানও সহযোগিতা করেছে। আগাছা বিক্রি করে উপার্জিত টাকায় এই কয়েক মাস চলে তার সংসার। আনারস মৌসুমের সময় প্রতিদিন এক হাজার থেকে ১২শ টাকা উপার্জন করতে পারে বলে তিনি জানান।
ব্যবসায়ী লোকমান হোসেন লিটন জানান, জগৎবেড় আগাছা দিয়ে আনারস ট্রাকে লোড দিয়ে মোকামে পাঠালে সহজে নষ্ট হয় না। সতেজ থাকে আনারস। এজন্য গারোবাজারের অধিকাংশ পাইকার আগাছা দিয়ে আনারস ট্রাকে লোড দিয়ে থাকে। খড়ের চেয়ে আগাছা অনেকটা ভালো বলে তিনি জানান।
মধুপুরে এগ্রোর স্বত্ব¡াধিকারী ইদ্রিস কাজল বলেন, দুর্মূল্যের বাজারে ফেলে দেয়া আগাছাও অভাবী মানুষের বেঁচে থাকার মাধ্যম হয়েছে ভাবতেই ভালো লাগছে।