প্যারাবন নিধন করে চিংড়ি ঘের

ন্যাশনাল

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধিকক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী মানুষের রক্ষাকবচ হিসেবে ঢাল হয়ে থাকা ‘চকরিয়া সুন্দরবন’ এর প্যারাবন

2026-10-27T00:00:00+06:00
2026-10-26T23:01:42+06:00
মঙ্গলবার ● ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩
শিরোনাম:
ন্যাশনাল
প্যারাবন নিধন করে চিংড়ি ঘের
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম  আপডেট: ২৬.১০.২০২৬ ১১:০১ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
চকরিয়া প্যারাবন —যাযাদি
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী মানুষের রক্ষাকবচ হিসেবে ঢাল হয়ে থাকা ‘চকরিয়া সুন্দরবন’ এর প্যারাবন নিধনযজ্ঞ শুরু হয়েছে আবারো। গত কিছুদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালীরা প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে প্যারাবন নিধনের মাধ্যমে নতুন নতুন চিংড়ি ঘের তৈরির কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে। এতে ব্যাপকভাবে কেটে ফেলা হচ্ছে ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের প্যারাবন।

সরেজমিন দেখা গেছে, মানুষের সুরক্ষা দেওয়া ‘চকরিয়া সুন্দরবন’ এর যা কিছু অবশিষ্ট ছিল তাও নিধন করে তৈরি করা হচ্ছে চিংড়ি ঘের। চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার চরণদ্বীপ, রামপুর, সওদাগরঘোনা, সাহারবিল, বদরখালীসহ বিভিন্ন জায়গায় এই প্যারাবন নিধন চলছে কিছুদিন ধরে।

উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা হেফাজতুর রহমান, আবদুল কাদেরসহ বেশ কয়েকজন সচেতন লোকজন জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলোচ্ছ্বাস থেকে দীর্ঘ সময় ধরে সুরক্ষা দিয়ে আসছিল এই ম্যানগ্রোভ বন। অবৈধভাবে লিজ ও অনিয়ন্ত্রিত চিংড়ি ঘের গড়ে উঠায় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বিস্তৃত বিশাল এই বন দ্রুতই হারিয়ে গেছে। তারা আরো জানান, সৃজিত সুন্দরী, কেওড়া, বাইন ও গেওয়াসহ হরেক প্রজাতির গাছে সমৃদ্ধ ছিল এই ম্যানগ্রোভ বন। এই বনে হরিণ, বন বিড়াল, বাঘসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীরও আবাসস্থল ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাহারবিল এবং বদরখালী ইউনিয়নের একাধিক ব্যক্তি বলেন, যারা প্যারাবন কেটে চিংড়ি ঘের তৈরি করছেন তারা প্রত্যেকে সরকারি দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং তারা খুবই প্রভাবশালী। তাই তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বিঘ্নে পরিবেশ বিধ্বংসী এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে চকরিয়ার এই সুন্দরবনকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে উচ্চ আদালত। পাশাপাশি বনকে রক্ষা করতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে একটা রিট আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চকরিয়া সুন্দরবনের সংরক্ষিত ২১ হাজার একরেরও বেশি বনভূমিতে দেয়া সব ধরনের অবৈধ ইজারা কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে প্রশাসনের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না মর্মে একটি রুলও জারি করেন আদালত।

স্থানীয়দের দাবি, কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় ঐতিহাসিক চকরিয়া সুন্দরবন রক্ষায় অবিলম্বে অবৈধ দখলদার ও অবৈধ লিজ বাতিল এবং ব্যাপক বন নিধন বন্ধ করে ভয়াবহ পরিণতি থেকে রক্ষা করতে হবে।

চকরিয়া ও মাতামুহুরীর ইউএনও শাহীন দেলোয়ার জানান, চকরিয়া সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকার জলোচ্ছ্বাস, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এই বনাঞ্চল রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ন্যাশনাল- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি, লাভ রোড, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত