প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৬.১০.২০২৬ ১১:০১ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
ভায়ালক্ষীপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র —যাযাদি চারঘাট (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর চারঘাটে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা। নিয়মিত খোলা হয় না এসব কেন্দ্র। কখনো খোলা থাকলেও অনুপস্থিত থাকেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও জনবল সংকটে সরকারি স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রামের মানুষ।
প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকাল অফিসার, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, ফার্মাসিস্ট, আয়া এবং এমএলএসএস কাম নিরাপত্তাপ্রহরী বা অফিস সহায়কের পদ রয়েছে।
চারঘাট উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর ও ১৭ অক্টোবর সরেজমিনে এসব কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিদর্শন করে বেহাল চিত্র দেখা গেছে। ভায়ালক্ষীপুর ও ইউসুফপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দুই দিনই তালা ঝুলতে দেখা যায়। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি। নিমপাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র খোলা থাকলেও সেখানে শুধু ফার্মাসিস্টকে পাওয়া গেছে। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার পদায়ন থাকলেও তাকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা রঙিলা বেগম বলেন, আগে কেন্দ্রে গর্ভবতী নারী ও শিশুরা প্রাথমিক চিকিৎসা পেতেন। এখন শুধু পিয়ন বসে থাকেন। সামান্য অসুস্থ হলেও ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়।
কেন্দ্রটি বন্ধ থাকার বিষয়ে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা আম্বিয়া খাতুন বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ছুটি কাটাচ্ছি, এটি সরকারি ছুটি নয়। আগের শনিবারও অসুস্থতার কারণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ফোনে জানিয়েছিলাম। অফিস সহায়ক কেন আসেনি, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
ইউসুফপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গত শনিবার দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত অবস্থান করেও তালা ঝুলতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বলেন, অধিকাংশ সময়ই কেন্দ্রটি বন্ধ থাকে। আবার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও নিয়মিত আসেন না।
কেন্দ্রটি বন্ধ থাকার বিষয়ে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকাল অফিসার ফারজানা ইয়াসমিনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফয়সাল ফেরদৌস বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো কেন বন্ধ ছিল, তা খোজ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।