প্রকাশ: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৬.০৮.২০২৬ ২:৪৩ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
শিগগিরই ঘোষণা
মন্ত্রণালয়-ভিত্তিক কার্যক্রমের ওপর
নিয়মিত নজরদারি করাই ছায়া
মন্ত্রী সভার প্রধান লক্ষ্য
পার্লামেন্টের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ‘ছায়া মন্ত্রী সভা’ গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, বিকল্প নীতি প্রস্তাব তৈরি এবং পার্লামেন্টে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী এ কাঠামো গঠন করেছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এরই মধ্যে দলটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও বণ্টন করা হয়েছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ছায়া মন্ত্রী সভার সদস্যদের নাম প্রকাশের কথা রয়েছে।
দলের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে ছায়া মন্ত্রী সভার প্রধান মন্ত্রী হিসেবে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। আর অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ঢাকা-১২ আসনের এমপি ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনকে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ছায়া মন্ত্রী সভা গঠনের বিষয়টি সামনে আনেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। মত বিনিময় সভায় তিনি জানান, এরই মধ্যে দলের পক্ষ থেকে একটি ছায়া মন্ত্রী সভা গঠন করা হয়েছে। এর সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চলছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ছায়া মন্ত্রী সভার সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হবে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান আইনজীবী এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, দলের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্তে গত মাসে ছায়া মন্ত্রী সভা গঠন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে এর সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হবে।
কারা এই ছায়া মন্ত্রিসভায় রয়েছেনÑ এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এ কাঠামো গঠন করা হয়েছে। সংগঠনের অনেক সিনিয়র নেতা রয়েছেন, যারা এমপি নন, তারাও ছায়া মন্ত্রী সভার সঙ্গে যুক্ত আছেন। সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতেই মূলত এই কাঠামো গঠন করা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, গত মাসে অনেকটা নীরবে ছায়া মন্ত্রী সভা গঠন করা হয়। এরপর থেকেই সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, সংশ্লিষ্ট বাজেট এবং সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা শুরু করেছেন। সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিকল্প নীতি প্রস্তাব তৈরির কাজও চলছে।
জামায়াতের প্ল্যান অনুযায়ী, সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে এক জন করে ছায়া মন্ত্রী থাকবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-ভিত্তিক একটি টিমও গঠন করা হবে, যারা ওই খাতের বিভিন্ন নীতি, সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করবে। প্রয়োজন হলে উপ মন্ত্রী পর্যায়েও দায়িত্ব বণ্টন করা হতে পারে। আগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে যৌথভাবে ছায়া মন্ত্রী সভা গঠনের চিন্তা থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলীয়ভাবেই এ কাঠামো তৈরি করেছে জামায়াত। এতে দলের শীর্ষ নেতা ও পার্লামেন্ট মেম্বারদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ, ইউনিভার্সিটির শিক্ষক এবং সাবেক ছাত্র শিবির নেতারাও এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। দলটির নেতাদের দাবি, প্রচলিত বিরোধী রাজনীতির বাইরে গিয়ে শুধু সরকারের সমালোচনা নয়, বরং সরকারের নীতির বিকল্প প্রস্তাব তৈরি এবং মন্ত্রণালয়- ভিত্তিক কার্যক্রমের ওপর নিয়মিত নজরদারি করাই ছায়া মন্ত্রী সভার প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে পার্লামেন্ট ও পার্লামেন্টের বাইরে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আরো সংগঠিত ও কাঠামোবদ্ধ ভূমিকা রাখতে চায় জামায়াত।