ইউপি নির্বাচনের তফশিল চলতি মাসেই ঘোষণা করা হবে

প্রথম পাতা

বিশেষ প্রতিনিধিএবারের নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নিরাপদ করতে সব ভোট কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার প্ল্যান করছে ইলেকশন কমিশন (ইসি)।

2026-09-07T00:00:00+06:00
2026-09-07T22:45:11+06:00
বৃহস্পতিবার ● ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
প্রথম পাতা
ইউপি নির্বাচনের তফশিল চলতি মাসেই ঘোষণা করা হবে
প্রকাশ: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ এএম  আপডেট: ০৭.০৯.২০২৬ ১০:৪৫ পিএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
বিশেষ প্রতিনিধি
এবারের নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নিরাপদ করতে সব ভোট কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার প্ল্যান করছে ইলেকশন কমিশন (ইসি)। পাশাপাশি বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো এবং পরিস্থিতির দ্রুত তথ্য পেতে ড্রোন ব্যবহারের প্ল্যান রয়েছে। ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলা, ভোট কেন্দ্রের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান এবং নারী, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী ভোটারদের সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। রবিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইলেকশন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এসব প্ল্যানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।’

এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ এই মাসের মধ্যেই অনেক কিছু দেখবেন এবং অনেক কিছুই আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব। কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ খুব দ্রুতগতিতে চলছে, সেগুলো শেয়ার করব।’

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আরো কিছু প্রস্তুতি রয়েছে, আচরণবিধি অলরেডি আমরা চূড়ান্ত করেছি। পার্লামেন্ট ইলেকশনে আমরা ইনট্রোডিউস করেছিলাম, অনেকই স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আমরা এনেছি এবং দুই-এক দিনের ভেতরে গেজেট নোটিফিকেশন হবে।’
ইলেকশন কমিশনার জানান, ‘নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস দুটি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, শিক্ষকদের জন্য খুব ব্যস্ততার সময়। বিশেষ করে, বার্ষিক পরীক্ষা, বৃত্তি পরীক্ষা, টেস্ট পরীক্ষা ও পৃ-টেস্ট পরীক্ষা রয়েছে। এই পরীক্ষাগুলো বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। ভোট কেন্দ্রগুলো হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এবং ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা হিসেবে পৃসাইডিং অফিসার, এসিস্টান্ট পৃসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার হবেন শিক্ষকরা। এই দুটি যাতে একই সময়ে না হয়, বিষয়টি আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হচ্ছে।’ ভোটের দিণক্ষণ নির্ধারণে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তফশিল ঘোষণার করা হবে।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘সেদিক থেকে আমরা আশা রাখি, এই পরীক্ষার সময়গুলো বাদ দিয়ে আগে বা পরে আমরা নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করব। যতটুক সম্ভব, সেটাকে আমরা ওইভাবে শেডিউলে নিয়ে আসব। তবে সুনির্দিষ্টভাবে আমি দিনক্ষণ-তারিখ এই মুহূর্তে বলতে পারব না, একটু সময় দিতে হবে। আমরা কাজ করছি। অচিরেই জানানো হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আইনগত বাধ্যবাধকতাগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার আশা করছে কমিশন। পরে পর্যায়ক্রমে সিটি কর্পরেশন, পৌরসভাসহ অন্যান্য নির্বাচন আয়োজন করা হবে।’

এ ছাড়া আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েনের প্ল্যান রয়েছে জানিয়ে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘ইলেকশন কমিশন নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো একসঙ্গে আয়োজনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন একসঙ্গে করা কঠিন। ব্যয় সংকোচনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মেয়াদ ও অন্যান্য বিষয় অনুযায়ী নির্বাচনগুলো ধাপে ধাপে আয়োজন করা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাযক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারীদের ভোটে অযোগ্য, এমপিওভুক্তদের ভোটে রাখাসহ নয় দফা দাবি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

কোন নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কেউ কি এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে?- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি উল্টো প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘অরাজনৈতিকভাবে নির্বাচন তো হতেই হবে। যেহেতু আইন রয়েছে। সেখানে কি এই বিষয়টা আমাদের নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কি বলার সুযোগ আছে? বলার সুযোগ তো নেই।’

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোটে অংশ না নেয়ার বিষয়ে ইলেকশন কমিশনার জানান, ‘কমিশনের কাজটা হচ্ছে একটা নিরপেক্ষ, সুন্দরভাবে সুষ্ঠুভাবে বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে নির্বাচনটা উঠিয়ে আনা। যারা শিক্ষকতা করেছেন তারা সবার সম্মানিত ব্যক্তি। তারা যাতে বিতর্কিত না হন। এর মধ্যে কেউ ইলেকশনে দাড়ালেন, সহকর্মীরা তার পক্ষে কাজ করবেন;  আবার তাদেরই পৃসাইডিং, পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করতে হচ্ছে। অপরপক্ষ বলবে যে তারা তো নিরপেক্ষ না। সে কারণেই ইলেকশন কমিশনের অবজারভেশন হচ্ছে- তাদের ভোটের বাইরে রাখা। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ যাতে নিশ্চিত হয় সেটাকে বিবেচনায় রেখে নির্বাচন কমিশন এই চিন্তাভাবনাটা করছে। এখনো চূড়ান্তভাবে হয়নি। সেটা আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে, ক্যাবিনেটে যাবে, পার্লামেন্টে প্লেস হবে, তর্ক হবে, বিতর্ক হবে। তারপরে আইন হিসেবে আসবে। সেটা যদি সবাই কনসেন্সাসে আসে তবে হবে; না হলে না হবে।’

জামায়াত নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নিয়ে কয়েক দফা ইসির সঙ্গে বৈঠক করেছে। পরে দলটির নেতারা সাংবাদিকদের বৃফিংকালে বলেছেন, ইসি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না, কমিশনকে অসহায় মনে হচ্ছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমি চাপে আছি, নাকি স্বাধীন আছি এটা তো আমি জানি। বরং এ কথা বলে আমাদের চাপে রাখারই তো একটা ফর্মুলা আমি মনে করি। কারণ আমরা যেটা করি না, ইলেকশন কমিশন যেভাবে কাজ করে না সেটা যদি আপনি চাপায় দেয়ার চেষ্টা করেন সেটাও সঠিক না।’

ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদনের শেষদিন আজ
সম্প্রতি মাঠ পর্যায়ে দেয়া ইসির চিঠি অনুযায়ী, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দিতে চাওয়াদের ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন দেয়ার সময় শেষ হচ্ছে আজ (৭ সেপ্টেম্বর)। আর নিষ্পত্তির শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর বেধে দিয়েছে ইসি। এরপরই ভোটার তালিকা মুদ্রণে যাবে।
প্রথম পাতা- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত