ঠাকুরগাঁও-১ আসনপ্রেসিডেন্টের ছেড়ে দেয়া আসনে উপ-নির্বাচন ২৯ অক্টোবর
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ এএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
যাযাদি রিপোর্ট
প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচন আগামী ২৯ অক্টোবর বলে জানিয়েছেন ইলেকশন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। বৃহস্পতিবার ইলেকশন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ ইলেকশন ভবনে ভোটের এ তফশিল ঘোষণা করেন। তফশিল অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর নমিনেশন পেপার দাখিল, বাছাইয়ের তারিখ ২৯ সেপ্টেম্বর, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর। আপিল নিষ্পত্তি ৬ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৭ অক্টোবর।
উপ-নির্বাচনে প্রবাসীরাও ভোট দিতে পারবে
ইসি সচিব জানান, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত জেলা ইলেকশন অফিসার ঠাকুরগাঁও, উপজেলা ইলেকশন অফিসার রুহিয়া, উপজেলা ইলেকশন অফিসার ভুল্লি- এই তিন জন। আউট অফ কান্টৃ ভোটিং থাকছে এবারো। গত ইলেকশনে বিদেশ থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নিবন্ধিত হয়েছিলেন ৩৮৬ জন, ৩৩টি দেশ থেকে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধিত হয়েছিলেন সউদি আরব থেকে। ইন কান্টৃ পোস্টাল ভোটিংয়ে নিবন্ধনের সংখ্যা ছিল চার হাজার ৪৫, তার মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ছিল দুই হাজার ৭৩৫।
এর আগে, গত ২২ আগস্ট নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় ত্রয়োদশ পার্লামেন্টের ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সংসদীয় আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। ওইদিন সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পার্লামেন্টের নির্বাচনী এলাকা ৩ ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত ত্রয়োদশ পার্লামেন্টের এমপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টের কার্যভার গ্রহণ করায় ওই আসনটি সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকে শূন্য হলো।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক
থাকছে না, বৈধ হলেই প্রার্থী
স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতি মন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে না হওয়ায় এতে দলীয় মনোনয়ন বা দলীয় প্রতীকের সুযোগ থাকছে না। আইন অনুযায়ী যারা বৈধ প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন, তারা সবাই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।’ বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতি মন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত বৃটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুকের সাক্ষাৎ শেষে এসব কথা জানান প্রতি মন্ত্রী।
সাক্ষাতে বৃটেনকে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহায়তাকারী দেশ উল্লেখ করে সারাহ কুক ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে সিটি কর্পরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মেডিকাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বৃটেন। পিপিপি মডেলে বিনিয়োগের বিষয়েও আগ্রহ দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের জন্য একটি টিম গঠনের কথা বলা হয়েছে। এ সময় বর্তমান সরকারের অর্থ বছরের মাস পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানান বৃটিশ হাই কমিশনার।
সাক্ষাতে পার্লামেন্ট ইলেকশনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে কি-না জানতে চান সারাহ কুক। জবাবে তাকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যেই আইন সংশোধন করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আর দলীয়ভাবে হবে না। ফলে দলীয় মনোনয়ন বা দলীয় প্রতীকও থাকবে না।
আইন অনুযায়ী বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে
অংশ নিতে পারবে
প্রতি মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার চলতি অর্থ বছরেই পাচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার বিষয়ে বদ্ধপরিকর। সব নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ইলেকশন কমিশনকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেহেতু দলীয়ভাবে হচ্ছে না, তাই এখানে কোনো দলের অংশগ্রহণের প্রশ্নও আসে না। আইন অনুযায়ী যারা বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার যোগ্য, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। দলীয় মনোনয়ন বা দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্থানীয়ভাবে সমর্থিত প্রার্থীদের সমর্থন দেয়া হবে। দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, স্থানীয় বিএনপি যেন সব ইউনিয়নে একক সমর্থিত প্রার্থী রাখার চেষ্টা করে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি কোনো আলাদা অবস্থান নেবে না।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘সরকারের ভূমিকা থাকবে ইলেকশন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে সহায়তা করা। বৈধ প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তারা যেন সঠিকভাবে ক্যাম্পেইন চালাতে পারে, সে জন্য স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেহেতু দলীয়ভাবে হচ্ছে না, তাই আইন অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা সব বৈধ প্রার্থীই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে যা যা করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে সরাসরি প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।’