বিরোধী দলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘প্রতিটি জাতির সংস্কৃতি থাকে। আমারা নিজেদের সংস্কৃতি থেকে পিছিয়ে পড়েছি। অপসংস্কৃতি ঢুকে গিয়েছে আমাদের সংস্কৃতিতে। সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ যদি উপযুক্তভাবে করা যায়, তখন একটি জাতির সুস্থ সংস্কৃতির পরিসর তৈরি হয়। সেই সংস্কৃতি হচ্ছে জ্ঞানের মেলবন্ধন।’ শুক্রবার ছাত্র শিবিরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রোড টু সিরাহ’ জাতীয় সিরাত পাঠ প্রতিযোগিতা ২০২৬ এর পুরস্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘এই জাতি এখন সবচেয়ে বড় সংকটে আছে। এই সংকট থেকে জাতিকে উত্তরণ করতেই হবে। আমাদের মধ্যে বহু ট্যালেন্ট আছেন। বাট মোস্ট অফ দেম আর ইভিল ট্যালেন্টস। আল্লাহর দেয়া মেধার এই নিয়ামতকে মানবতার, সৃষ্টির এবং কল্যাণের জন্য না লাগিয়ে, এই স্বার্থপর, সংকীর্ণমনা লোকগুলো শুধু বৈধ অবৈধ সব পথে তার নিজের লাভটা খুজে বেড়ায়।’ তিনি বলেন, ‘আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার রাস্তা একটাই। আর তা হচ্ছে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নকশা কদম অনুসরণ। পায়ে পায়ে, অক্ষরে অক্ষরে তাকে অনুসরণ করে চলা।’
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনকে অনুসরণীয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এক জন শিশুকে যদি প্রশ্ন করা হয় বা এক জন শিশু যদি প্রশ্ন করে যে আমি কাকে অনুসরণ করব? তার উত্তর হচ্ছে মা আমিনা এবং হালিমাতুস সাদিয়া রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহার শিশু পুত্র মোহাম্মদ হচ্ছে তোমার অনুসরণীয়।’ তিনি বলেন, ‘তিনি অবুঝ থাকা অবস্থায় দুধ ভাইয়ের হক তিনি নষ্ট করেননি। কাউকে কষ্ট দেননি। মুখ দিয়ে একটা অশ্লীল কথা বলেননি। কারো হক নষ্ট করেননি।’
কিশোর বয়সের উদাহরণ তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এরপরে যদি এক জন কিশোরকে জিজ্ঞেস করা হয় বা কিশোর যদি জিজ্ঞেস করে যে আমি কাকে অনুসরণ করব? তাহলে মক্কার সেই শান্ত, সৌম, বুদ্ধিদীপ্ত, দায়িত্বশীল কিশোর মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের কথাটা এখানে এসে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘কাবাঘর মেরামতের পর পাথর, কালো পাথর, হাজরে আসওয়াদ এটা প্রতিস্থাপন নিয়ে যে সংকট দেখা দিয়েছিল, সেখানে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আশঙ্কা চারটা কবিলার মধ্যে দেখা দিয়েছিল। তার নিখুত সমাধান ইনসাফপূর্ণ সমাধান দিয়েছিলেন সেই কিশোর মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তা’আলা এভাবেই তাকে শৈশব, কৈশোর, যৌবন এই সবগুলোতে নিয়ামত পড়া আখলাক দিয়ে তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছিলেন।’
মহানবী (সা.) এর জীবনের বিভিন্ন প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি জন্মগতভাবেই তিনি এতিম ছিলেন। জন্মের আগেই বাবা তার মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় ইন্তেকাল করেছিলেন আর ছয় বছরের মাথায় মাকেও হারিয়েছিলেন। আট বছরের মাথায় দাদাকে হারিয়েছিলেন। এভাবে জীবনে একটার পর একটা ধাক্কা তার জীবনে এসেছিল।’ তিনি বলেন, ‘এক জন ব্যবসায়ী, এক জন দার্শনিক, এক জন চিন্তাবিদ, এক জন সমন্বয়ক, এক জন প্রধান বিচারপতি যে ক্ষেত্রেই জীবনের প্রশ্ন আসবে যে আমি কাকে অনুসরণ করব? নিঃসন্দেহে তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।’