বদলিকৃত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান ও সাময়িক বরখাস্ত গুদাম কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইসলাম। নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি খাদ্য গুদামে (এলএসডি) ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর। কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে অনিয়ম, নিয়ম না মেনে ধান সংগ্রহ এবং একই ব্যক্তির কাছ থেকে একাধিকবার ধান সংগ্রহ করে বিল পরিশোধের মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
একই ঘটনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানকেও বদলি করা হয়েছে। তবে তাঁর বদলিকে নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে গত ৩১ আগস্ট মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, খাদ্য অধিদপ্তরের উপসচিব মো. মাহাবুর রহমান শেখ স্বাক্ষরিত গত ৯ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমানকে ঢাকা আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত সহকারী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে বদলি করা হয়।
বদলির বিষয়টি আজ রোববার নিশ্চিত করেছেন সদ্য বদলিকৃত জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান।
খাদ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, মহাপরিচালকের টেলিফোনিক নির্দেশনার পর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিরিশিরি খাদ্য গুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।
পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, কৃষি বিভাগ থেকে সরবরাহ করা আগ্রহী কৃষকদের তালিকা যথাযথভাবে প্রণয়ন করা হয়নি। তালিকায় কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য না থাকায় যাচাই-বাছাই কঠিন হয়ে পড়ে। এমনকি একই কৃষকের নাম একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত করার তথ্যও পাওয়া যায়।
নিয়ম অনুযায়ী, কৃষি বিভাগের প্রত্যয়ন নিয়ে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করার কথা। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে শুধু জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে কৃষক শনাক্তকরণও যথাযথভাবে করা হয়নি বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা মেহেদী ইসলাম একটি সিন্ডিকেটের সহায়তায় ধান সংগ্রহ করেছেন বলে প্রজ্ঞাপনে প্রতীয়মান হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
রেজিস্টার ও কৃষি বিভাগের সরবরাহ করা তালিকা পর্যালোচনায় আরও অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা-২০১৭ লঙ্ঘন করে একই ব্যক্তির কাছ থেকে একাধিকবার ধান সংগ্রহ এবং সেই ধানের বিপরীতে বিল পরিশোধ করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুর্গাপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের যথাযথ তদারকির ঘাটতিও ছিল বলে জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, মেহেদী ইসলামকে বরিশালের উজিরপুরে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যক্রম চলমান থাকায় তাঁকে চাকরিতে বহাল রাখা সমীচীন মনে করেনি কর্তৃপক্ষ। প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।
এদিকে নেত্রকোনায় সরকারি খাদ্যশস্য নিয়ে অনিয়ম ও পাচারের অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ১৪ মে রাতে মদন উপজেলায় পাচারের সময় ২০ টন সরকারি চাল জব্দ করে প্রশাসন। ওই ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও গুদাম কর্মকর্তাকে বরিশালে বদলি করা হয়। এর পর একই উপজেলায় গত ৪ সেপ্টেম্বর পাচারের সময় আরও ৫ টন সরকারি চাল জব্দ করা হয়। দুটি ঘটনায়ই থানায় মামলা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২১ জুন কেন্দুয়া উপজেলায় ১৩ হাজার ৫১৫ কেজি সরকারি চাল জব্দ করে সেনাবাহিনী।
ধান সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া বিরিশিরি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী ইসলামের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোয়েতাছেমুর রহমান বলেন, ‘ধান সংগ্রহে অনিয়মের কারণেই গুদাম কর্মকর্তা মেহেদী ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’
নিজের বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা নিয়মিত বদলিই মনে হচ্ছে। ওই ঘটনার সঙ্গে এই বদলির কোনো সম্পর্ক নেই।’