বৃটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুক প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সোমবার বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন —পিআইডি* প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৃটিশ হাই কমিশনারের সাক্ষাৎশান্তিপূর্ণ ইলেকশনের
* মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে :প্রেসিডেন্ট
* ৯৯.৯৯ শতাংশ পণ্য আরো তিন বছর বৃটেনের বাজারে শুল্ক মুক্ত সুবিধা পাবে :সারাহ কুক
বাংলাদেশের শিক্ষা, মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি খাতে বৃটেনের সহযোগিতা বৃদ্ধি ও দুই দেশের মধ্যকার ব্যবসা ও বিনিয়োগ আরো জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার বঙ্গভবনে বৃটিশ হাই কমিশনার সারাহ কুক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলমের স্বাক্ষর করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে সারাহ কুক প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বৃটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের পক্ষ থেকে একটি অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন। প্রেসিডেন্ট শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনপত্রের জন্য রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং বৃটিশ হাই কমিশনারের মাধ্যমে রাজার প্রতি শুভেচ্ছা পৌছে দেয়ার অনুরোধ জানান। এ সময় তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বৃটেনে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ আরো সম্প্রসারণ, কমনওয়েলথ-এর শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, দেশের মানব সম্পদ উন্নয়ন এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বৃটেনের সহযোগিতা কামনা করেন।
শান্তিপূর্ণ ইলেকশনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে
প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘বৃটেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৃটেন ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধন জোরদার ও উন্নয়নে অনেক অবদান রাখছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি কমনওয়েলথের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর উন্নয়ন ও অভিন্ন স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বৃটেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ইলেকশনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আবার গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে।’ ইএ ধারাকে আরো শক্তিশালী করতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনপ্রতিনিধিদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এ সময় ওয়েস্টমিনিস্টার পদ্ধতির গণতন্ত্র চর্চায় বৃটেনের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট দুই দেশের এমপিদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, পারস্পরিক সফর ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন।
৯৯.৯৯ শতাংশ পণ্য আরো তিন বছর বৃটেনের বাজারে শুল্ক মুক্ত সুবিধা পাবে
এ সময় হাই কমিশনার জানান, তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের প্রায় ৯৯.৯৯ শতাংশ পণ্য এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আরো তিন বছর বৃটেনের বাজারে শুল্ক মুক্ত অবাধ প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। প্রেসিডেন্ট এই সুবিধাকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বৃটিশ হাই কমিশনার বাংলাদেশ ও বৃটেনের মধ্যে ডিজিটাল ক্লাইমেট ডাটা বিনিময়ের উদ্যোগের বিষয়েও প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন। দুই দেশের মধ্যে আবহাওয়া ও জলবায়ু-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস আরো নির্ভুল করা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রেসিডেন্ট সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সচিব, প্রেস সচিব, বৃটিশ ডেপুটি হাই কমিশনার ও উন্নয়ন পরিচালক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইউনিভার্সিটিগুলোতে নীতি প্রণয়ন ও গবেষণা বাড়ানোর তাগিদ প্রেসিডেন্টের
উচ্চ শিক্ষার মান উন্নয়নে ইউনিভার্সিটিগুলোকে নীতি প্রণয়ন ও গবেষণা কার্যক্রম আরো বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার দুপুরে বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পৃথকভাবে খুলনা ইউনিভার্সিটি ও ইসলামি ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় প্রেসিডেন্ট ইউনিভার্সিটিগুলোতে শিক্ষা ও গবেষণার মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
ইউনিভার্সিটিগুলোর চ্যান্সেলর (আচার্য) হিসেবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট। ডিগৃ অর্জনের পর শিক্ষার্থীরা যাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের যোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, সে লক্ষ্যে ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর তাগিদ দেন তিনি। সাক্ষাৎকালে দুই ইউনিভার্সিটির ভিসিরা তাদের নিজ নিজ ইউনিভার্সিটির সার্বিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন। এ সময় প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে ধ্বংসপ্রাপ্ত ও বিপর্যস্ত শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং এর মান উন্নয়নে বর্তমান সরকার গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে।’
খুলনা ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভিসি অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম। ইসলামি ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। এ সময় প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।