গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ ও দায়িত্ব

সিলেট প্রতিনিধি

শেষ পাতা

সিলেটে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল* ভগ্নস্তূপ থেকে দেশকে জাগিয়ে তুলতে সরকার চেষ্টা করছে* সরকারি দল, বিরোধী দলের দায়িত্ব পার্লামেন্টকে ফাংশনাল করা*

2026-09-16T00:00:00+06:00
2026-09-16T10:20:16+06:00
বৃহস্পতিবার ● ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
শেষ পাতা
গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ ও দায়িত্ব
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ এএম  আপডেট: ১৬.০৯.২০২৬ ১০:২০ এএম (প্রিন্ট সংস্করণ)
প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার সিলেট সিটি কর্পরেশন প্রাঙ্গণে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন —যাযাদি
সিলেটে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল

* ভগ্নস্তূপ থেকে দেশকে জাগিয়ে তুলতে সরকার চেষ্টা করছে 
* সরকারি দল, বিরোধী দলের দায়িত্ব পার্লামেন্টকে ফাংশনাল করা
* সামনের লড়াই হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য আবাস নির্মাণ

‘গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ ও দায়িত্ব’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে সিলেট সিটি কর্পরেশন প্রাঙ্গণে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আজকে বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে, রক্তপাতের বিনিময়ে, আমাদের সন্তানদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটা ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে দীর্ঘকাল লড়াই করে একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছি। আমরা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার একটা সুযোগ পেয়েছি। একটা ইলেকশন হয়েছে। অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ইলেকশন হয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে। ইলেকশনের মধ্য দিয়ে আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে এখানে সরকার গঠন হয়েছে। এই সরকার চেষ্টা করছে অতিদ্রুততার সঙ্গে দেশকে কি করে একটা ভগ্নস্তূপ থেকে আবার জাগিয়ে তোলা যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমি প্রায়ই আপনাদের বলতাম— আমরা যারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করি, তারা অনেকটা আপনার ফিনিক্স পাখির মতো। ধ্বংস হয়ে যায়, সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আবার সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।’
গণতন্ত্র রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গণতন্ত্র পেয়েছি। গণতন্ত্রকে রক্ষা করাটাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ, সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আজকে যে বিরোধী দল আছে, সরকারি দল আছে— আমি মনে করি যে সরকারি দল, বিরোধী দলের প্রধান দায়িত্ব হবে গণতান্ত্রিক অবস্থাকে টিকিয়ে রাখা। প্রধান দায়িত্ব হবে যে সংসদ আছে, সেই সংসদকে ফাংশনাল করা। তাকে যেন কাজ করে ঠিকমতো, সেইভাবে কাজ করার চেষ্টা করা। অন্যান্য বিষয়গুলোতে দ্বিমত থাকতে পারে। সেই দ্বিমতগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কিন্তু সমাধান করা সম্ভব।’

প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি মনে করি যে আগামী দিনগুলোতে আমাদের যেমন আমরা অতীতে লড়াই করেছি গণতন্ত্রের জন্য, সামনের লড়াই হচ্ছে আমাদের দেশকে পুনর্গঠন করার জন্য, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তাদের জন্য একটা সত্যিকার অর্থেই একটা বাসযোগ্য আবাস যেন আমরা নির্মাণ করতে পারি। এই বিষয়গুলো আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে। আমরা বারবার হোচট খেয়েছি। এই দেশের মানুষ বারবার গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে, কিন্তু বারবার বাধা পেয়েছে। আজকে সেই সুযোগ এসেছে। সেই সুযোগ আমরা কখনো অবহেলায় একে না হারাই। এ কথাটা সব সময় আমাদের মনে রাখতে হবে।’

সিলেটের বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সিলেটের কিছু সমস্যার কথা আপনারা বলেছেন। আমার মনে হয় আপনাদের মন্ত্রীবর্গ যারা আছেন, আপনাদের সদস্য যারা আছেন, তারা যথেষ্ট যোগ্য। এই বিষয়গুলো নিয়ে তারা কথা বলছেন, কাজ শুরু হয়েছে। মন্ত্রীর কাছে শুনলেন যে অনেকগুলো বড় বড় কাজ এরই মধ্যে সামনে চলে এসেছে। ইনশাআল্লাহ এই কাজগুলো এগিয়ে যাবে এবং এর মধ্যে দিয়ে আপনাদের জনগণের যে অনেক দিনের আকাঙ্ক্ষা, সে আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে নিশ্চয়ই।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি কর্পরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্টের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম, বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্ম সংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেটের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সদস্যরা, জেলা প্রশাসকসহ রাজনৈতিক নেতারা ও প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে এদিন সকালে প্লেনযোগে সিলেটে পৌছান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সার্কিট হাউসে গার্ড অফ অনার গ্রহণ শেষে দুপুরে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তিনি। এরপর নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পর বিকাল পৌনে ৪টার দিকে নগর ভবনে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে যায়নি মহানগর বিএনপি
সিলেট সিটি কর্পরেশনের উদ্যোগে প্রেসিডেন্টের সম্মানে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যায়নি মহানগর বিএনপি। যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি গঠন না করে সংবর্ধনা আয়োজন এবং আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই অভিযোগে বিএনপির কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা ও একাধিক পার্লামেন্ট মেম্বারও অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, ‘ওই অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী অংশ নেয়নি।’

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘যথাযথ প্রক্রিয়ায় নাগরিক কমিটি গঠন না করে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো অনুষ্ঠানটি বয়কট করেছে।’

দলীয় সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্টের সিলেট সফরের শুরু থেকেই স্বাগত জানিয়েছিল মহানগর বিএনপি। মঙ্গলবার সকালে প্রেসিডেন্ট সিলেট ওসমানী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে পৌছালে তাকে স্বাগত জানাতে নগরের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেন দলটির নেতা-কর্মীরা। পরে প্রেসিডেন্ট হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে গেলে সেখানেও মহানগর বিএনপির নেতাদের উপস্থিতি ছিল। তবে সিটি কর্পরেশনের উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজনের বিষয়টি সামনে আসার পর দলটির অবস্থান পরিবর্তন হয়।
শেষ পাতা- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত