
আগামী ১২ নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু করতে যাচ্ছে ইলেকশন কমিশন (ইসি)। দেশের চার হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদে সাত ধাপে ভোট আয়োজনের প্রাথমিক প্ল্যান করেছে কমিশন। প্রথম ধাপে ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদকে বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইলেকশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইলেকশন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত বৃগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান। একই দিন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের প্ল্যানের কথা জানান ইলেকশন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদও।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোটের তারিখ ১২ নভেম্বর। দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপে আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপে ২২ এপৃল এবং সপ্তম ধাপে ২৭ মে ভোট আয়োজনের প্রাথমিক প্ল্যান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে ১৩টি সিটি কর্পরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, প্রায় ৫০০টি উপজেলায় বিভিন্ন পদে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হলেও তা চূড়ান্ত না হলে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত আচরণ বিধি ও আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধির খসড়াও প্রকাশ করেছে ইসি। আইন সংশোধনের খসড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর মন্ত্রী সভায় অনুমোদন এবং পরবর্তী সময়ে পার্লামেন্টে পাসের প্রক্রিয়া রয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন সামনে রেখে ২৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বৈঠকে বসছে ইসি।
ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা চিঠিতে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে ইলেকশন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ প্রস্তুতিমূলক সভা হবে। চিফ ইলেকশন কমিশনারের সভাপতিত্বে সভায় কমিশনাররা কমিশনাররা উপস্থিত থাকবেন।
সভায় জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আইন, স্থানীয় সরকার, পররাষ্ট্র, তথ্য ও সম্প্রচার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, ডাক ও টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আনসার-ভিডিপি, ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের প্রতিনিধিদেরও উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।