ছবি-যাযাদিযশোরের চৌগাছায় সার ডিলার নিয়োগ হওয়ার জন্য এবার ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মোট ১২ ডিলার ইউনিটের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ১৬৫টি। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি ডিলার ইউনিটের বিপরীতে আবেদন করেছেন প্রায় ১৪ জন। বিপুলসংখ্যক আবেদন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকার কৃষকের হাতে সময়মত ও ন্যায্য মুল্যে সার পৌছিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে চলতি বছরের ৩১ আগষ্ট নতুন করে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেন। বিজ্ঞাপন প্রকাশের পর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বিভিন্ন ব্যাক্তি সার ডিলার হওয়ার জন্য ব্যাপক আগ্রহী হয়ে আবেদন জমা দেন। ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ দিন ছিলো।
নতুন করে উপজেলায় ১২ ডিলার ইউনিটে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হলেও আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ। ফলে প্রতিটি ইউনিটে একাধিক আবেদনকারীর মধ্যে বাছাই করতে হবে। এ অবস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতা যাচাই, মাঠপর্যায়ের তদন্ত এবং চূড়ান্ত নির্বাচন কতটা স্বচ্ছভাবে হচ্ছে, এটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে নারায়নপুর ইউনিয়নে যার সংখ্যা হলো ২১টি। এছাড়া চৌগাছা সদর ইউনিয়নে ১৫টি, ফুলসার ইউনিয়নে ১৭টি, সিংহঝুলী ইউনিয়নে ১২টি, পাশাপোল ইউনিয়নে ২০ টি, ধুলিয়ানী ইউনিয়নে ৯টি, পাতিবিলা ইউনিয়নে ৯টি, জগদিশপুর ইউনিয়নে ১০টি, হাকিমপুর ইউনিয়নে ৮ টি, স্বরুপদাহ ইউনিয়নে ১৮ টি, সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নে ১৪ টি ও পৌরসভায় ১২টি আবেদন জমা পড়েছে।
উপজেলা সার ও বীজ সংরক্ষণ কমিটির পক্ষ থেকে উপজেলা কৃষিসম্প্রসারণ অফিসার নিসাত ইসলামকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মেজবাহ উদ্দীন, প্রাণী সম্পাদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল করিম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এএসএম বজলুর রহমান, আইসিটি অফিসার আশরাফুল ইসলাম ও পল্লীসঞ্চয় ব্যাংক কর্মকর্তা ওবাইদুল হক। ইতিমধ্যে প্রাথমিক তদন্তের কাজ শেষ হয়েছে।
সার ডিলারশিপে এত বিপুল আগ্রহের পেছনে ব্যবসায়িক সম্ভাবনাই অন্যতম কারণ কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। একজন ডিলার বছরে কী পরিমাণ সার বরাদ্দ পান, ওই সার বিক্রি করে তার মোট ব্যবসার পরিমাণ কত এবং পরিবহন, গুদাম, শ্রমিকসহ অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে প্রকৃত মুনাফা কত—এসব তথ্য প্রকাশ্যে না থাকায় বিষয়টি নিয়ে ¯পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।
নতুন ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদন কারীদের যোগ্যতা, নির্ধারিত স্থানে গুদাম ও ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা, কৃষকদের কাছে সার সরবরাহের বাস্তব সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা মাঠ পর্যায়ের তদন্তে যাচাই হওয়ার কথা। বিপুলসংখ্যক আবেদন হওয়ায় যাচাই কার্যক্রম আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে, ১২ টি ডিলার ইউনিটের বিপরীতে ১৬৭টি আবেদন এখন তাই শুধু পরিসংখ্যান নয়; সার ব্যবসার অর্থনৈতিক আকর্ষণ এবং ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা—দুই বিষয়েই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষকদের কাছে সার সরবরাহের স্বার্থে ডিলার নিয়োগে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়া দরকার। একই সঙ্গে বর্তমান ডিলারদের বরাদ্দ, বিক্রি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের তথ্য পর্যালোচনা করলে নতুন করে এত বিপুলসংখ্যক আবেদন পড়ার কারণ সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হুসাইন বলেন, ইতোমধ্যে আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন কারীদের বিষয়ে মাঠপর্যায়ে তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নীতিমালা অনুসরণ করেই প্রাথমিক তদন্তের কাজ ইতিমধ্যে শেষ করা হয়েছে। পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।