প্রকাশ: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৮ পিএম
ছবি-যাযাদিগাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের প্রতিবাদসহ নারী ও শিশুদের ওপর সব ধরনের নির্যাতন বন্ধের দাবিতে গাজীপুরে মোমবাতি প্রজ্বালন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নারী ও শিশুদের ওপর যৌন হয়রানি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, নিপীড়ন এবং সহিংসতার প্রতিবাদে গাজীপুর শহরের বটতলা এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন নারী সংগঠনের নেতাকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা হাতে মোমবাতি নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। পরে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সমাবেশ। সমাবেশ থেকে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। কর্মসূচির আয়োজকরা বলেন, সমাজে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, যৌন হয়রানি এবং নির্যাতনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব ঘটনার বিরুদ্ধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাদের আইনি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা। সম্প্রতি রাজধানীর ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে মরিয়মকে বিয়ের পর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মরিয়ম যে কক্ষে থাকতেন, সেখান থেকে কিছু চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার আদালত গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা আক্তারের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।সমাবেশে বক্তারা বলেন, কোনো নারী কিংবা শিশু যেন নির্যাতনের শিকার হয়ে অসহায় অবস্থায় না পড়ে, সে জন্য সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি। যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ভুক্তভোগীকে দোষারোপ না করে তার পাশে দাঁড়ানো এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনার দাবি জানান তারা। তারা আরও বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে শুধু একটি ঘটনার পর প্রতিবাদ নয়, ধারাবাহিকভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার, গণপরিবহনসহ সব জায়গায় নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। আয়োজকরা জানান, নারী ও শিশুদের ওপর যৌন হয়রানি থেকে শুরু করে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক—সব ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিই তাদের এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।ডেমোক্রেসি ডেস্ক ও এইচইআর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নারী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।