ছবি-যাযাদি গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার এক্সকাভেটর চাপায় আহত মাজু মুন্সী নামে এক পথচারী বৃদ্ধ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এরআগে, সকালের দিকে শ্রীপুর বাজারে এক্সকাভেটর চাপায় আহত হন তিনি।
নিহত মাজু মুন্সী (৭০) শ্রীপুর পৌর এলাকার ভাংনাহাটি গ্রামের গুজাম মুন্সীর ছেলে।
অভিযুক্ত পৌরসভার চালকের নাম জাহাঙ্গীর আলম। তার বিস্তারিত পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানান পৌর কর্তৃক।
স্থানীয় লোকজন,পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্র জানায়,পৌরসভার অধিনে মশক নিধন ঠেকাতে র্যালীর আয়োজন চলছিল শ্রীপুর গরু হাটা এলাকায়। সেখানে ময়লার ভাগাড় দেখে পৌর কর্তৃপক্ষ ফোন দিয়ে তাদের এক্সকাভেটর ডাকেন। ইউএনও আসার আগেই তড়িঘড়ি করে এক্সকাভেটর গন্তব্য স্থানে পৌঁছতে চেষ্টা করছিল। পৌর এক্সকাভেটর গরুহাটা চার রাস্তার মোড়ে পৌঁছালেই সামনে থাকা ওই মাজু মুন্সীকে চাপা দেয়। এতে পায়ে ও শরীরে গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে ইউএনওর লোকজন স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ৩টার দিকে মারা যান মাজু মুন্সী।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড: শফিকুল ইসলাম বলেন,' শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত নিয়ে মজু মুন্সীকে ১১টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁকে ওটি থেকে বের করে বেডে দেয়ার পর তাঁর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে বিকেল ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন,' হাসপাতালে আনার পরপরই আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। দুপুরের দিকে হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে মারা যান তিনি। আমরা পুলিশকে জানিয়েছি।'
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন,' বিষয়টি ইউএনও ও এসিল্যান্ড দেখছে। উনারা যেভাবে ব্যবস্থ নিতে সুপারিশ করবে এবং নিহতের স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ চলমান।'
শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঞা বলেন,' বিষয়টি একটি দু:খজনক দুর্ঘটনা। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই আমি ঘটনাস্থল,হাসপাতালের চিকিৎসার সময় ও নিহতের বাড়িতে গিয়েছি। পরিবারকে আর্থিক ক্ষতি পূরণের ব্যবস্থা করেছি। নিহতের মেয়েকে সরকারি ভাবে চাকরির কোনো সুযোগ থাকলে সার্বিক সহায়তা করা হবে।'
তিনি আরও বলেন,' সকাল থেকে পৌর শহরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছিল। এক্সকাভেটর চলাচলের রাস্তা পরিষ্কার রাখার জন্য পৌরসভার ট্রাফিক বিভাগের লোকজন কাজ করছিলেন। এর মধ্যেই অসাবধানতাবশত ওই ব্যক্তি এক্সকাভেটরের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আহত হন।'