ছবি-যাযাদি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসিয়ে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রির বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
শনিবার কক্সবাজারের উখিয়ার ২ ডাব্লিউ এবং ৪ এক্সটেনশন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শনকালে এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টিকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চীনের ‘সিএমইসি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন ৩ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে প্রায় ৪৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে চীনের ‘উইমীম’ সম্ভাব্যতা যাচাই করছে।
কক্সবাজার পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সেখানে ম্যানুয়ালি কাজ করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আধুনিক পদ্ধতিতে যন্ত্রপাতির মাধ্যমে প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং কক্সবাজারে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা বিশেষজ্ঞরা পর্যালোচনা করবেন।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম জানান, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ৩০০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সারা দেশের প্রায় ৪ হাজার ইউনিয়ন পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৫০৩টি উপজেলা পরিষদ এবং বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার ও হাটবাজারসহ মোট ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানো হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এ প্রকল্পের আওতায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ব্যবহারের জন্য এবং অতিরিক্ত ১৫০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ৩৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের বিশেষ আর্থিক প্রণোদনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে কিনে নেবে সরকার। আগে যেখানে প্রতি ইউনিটের দর ছিল ৭ টাকা ৯০ পয়সা, সেখানে ১০ টাকা ৫০ পয়সার এই বিশেষ সুযোগ নিতে ২০২৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
এসময় মন্ত্রীর সাথে ছিলেন সংসদ সদস্য,প্রশাসনের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ,সুশিল সমাজের নেতৃবৃন্দ।