প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৫ পিএম
সংগৃহীত ছবিবিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম শুক্রবার প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো দরপতনের পথে রয়েছে মূল্যবান এই ধাতু। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের উচ্চ সুদহার স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি করেছে। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম কমেছে দুই শতাংশের বেশি।
শুক্রবার ০৪১৯ জিএমটি পর্যন্ত স্পট স্বর্ণের দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। এ সময় প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল চার হাজার ১৮৪ দশমিক ৪৫ ডলার। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার চুক্তির দাম দশমিক তিন শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে চার হাজার ২১৪ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই প্রতিবেদন থেকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার নির্ধারণের সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন ডলারের মূল্যও বাড়ার পথে রয়েছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেন করা ক্রেতাদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের বাড়তি সুদহার। বৃহস্পতিবার ১০ ও ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। বন্ডের সুদহার বাড়লে সাধারণত সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণে চাপ পড়ে।
ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা বলেন, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখছেন।
বিনিয়োগকারীদের নজরে এখন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের নতুন তথ্য। বেসরকারি খাতের বাইরে কর্মসংস্থানের এই পরিসংখ্যান সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
কর্মসংস্থানের তথ্য শক্তিশালী হলে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। আর সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফলে ডলারের গতিপথ, মার্কিন বন্ডের সুদহার, কর্মসংস্থানের নতুন তথ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, এই চারটি বিষয়ই এখন স্বর্ণের বাজারে বিনিয়োগকারীদের নজরের কেন্দ্রে রয়েছে।