ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত গাজীপুরের শ্রীপুরে কলেজছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ ওঠার কয়েক দিন পর ফেসবুক লাইভে এসে ভিন্ন দাবি করেছেন ওই ছাত্রী। তিনি বলেছেন, অপহরণ নয়, নিজের ইচ্ছায় ছাত্রদল নেতা মো. রিজভীর সঙ্গে গিয়েছেন তিনি। লাইভে রিজভীও দাবি করেন, গত ২২ জুলাই তারা ভালোবেসে বিয়ে করেছেন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি লাইভ ভিডিওতে রিজভী ও ওই কলেজছাত্রীকে একসঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে নিজেদের স্বামী-স্ত্রী দাবি করে তাঁরা বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অপহরণের যে অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, তা সঠিক নয়।
লাইভে রিজভী বলেন, ‘দুই দিন যাবৎ আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। ফেসবুকে বলা হচ্ছে, আমি তাকে অপহরণ করেছি। গত ২২ জুলাই আমরা ভালোবেসে বিয়ে করি। আমরা দুজনই প্রাপ্তবয়স্ক এবং আমার স্ত্রীর বয়স সাড়ে ১৯ বছর।’
এরপর কলেজছাত্রী বলেন, ‘আমার বয়স সাড়ে ১৯ বছর। দুই দিন যাবৎ দেখতেছি ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমার হাজব্যান্ড আমাকে নাকি অপহরণ করছে। আসলে আমরা ২২ জুলাই ভালোবেসে বিয়ে করি। আমাদের সম্পর্ক ছিল দুই বছরের।’
তিনি দাবি করেন, বিয়ের পর তাঁর পরিবার তাঁদের মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে স্বামীকে বিদায় করে তাঁকে রেখে দেওয়া হয়। কিছুদিন পর তিনি আবার স্বামীর সঙ্গে চলে আসেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তাঁকে আবার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে স্বামীকে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এরপর তিনি আবার স্বামীর সঙ্গে চলে আসেন।
কলেজছাত্রী বলেন, ‘এখন সংবাদ ছড়ানো হচ্ছে যে, আমার স্বামী আমাকে অপহরণ করে আনছে। বিষয়টি এমন না। আমি নিজ ইচ্ছায় আমার হাজব্যান্ডকে ভালোবেসে এসেছি। এখানে অপহরণের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
পরিবারের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার শ্বশুরবাড়ির মানুষদের যেন হয়রানি করা না হয় এবং তার স্বামীকেও যেন হয়রানি করা না হয়। তিনি দাবি করেন, তাদের দুই বছরের সম্পর্ক ছিল এবং ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। কলেজে যাওয়া-আসার পথে রিজভী তাকে বিরক্ত করতেন বলেও যে খবর ছড়িয়েছে, সেটিও অস্বীকার করেন তিনি।
এদিকে, এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর কলেজছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ এনে তার পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে রিজভী, তার বাবা মনির হোসেন ও মা নিলুফা আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। পরিবারের অভিযোগ ছিল, কলেজে যাওয়া-আসার পথে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা হতো এবং পরে তাকে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগের পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ দেখিয়ে রিজভীকে পিয়ার আলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করে গাজীপুর জেলা ছাত্রদল।
ঘটনার পর রিজভীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তখন তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। শ্রীপুর থানা পুলিশও জানিয়েছিল, অভিযোগ পাওয়ার পর কলেজছাত্রীকে উদ্ধারে অভিযান ও আইনগত প্রক্রিয়া চলছিল।
শুক্রবারের ফেসবুক লাইভে রিজভী ও কলেজছাত্রীর দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়ার সর্বশেষ অবস্থান তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।