ইমোতে পরিচয়, ১০ মাসের সন্তান নিয়ে স্বামীর বাড়ি, এসে জানলেন তালাক!

নেত্রকোণা প্রতিনিধি

সারাদেশ

ইমোতে পরিচয়, এরপর প্রেম। সেই সম্পর্ক গড়ায় বিয়েতে। সংসারে আসে কন্যাসন্তান। কিন্তু ১০ মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে মাদারীপুর থেকে নেত্রকোনার

2026-10-02T21:12:02+06:00
2026-10-02T21:12:02+06:00
শনিবার ● ৩ অক্টোবর ২০২৬
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
ইমোতে পরিচয়, ১০ মাসের সন্তান নিয়ে স্বামীর বাড়ি, এসে জানলেন তালাক!
নেত্রকোণা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১২ পিএম  
সাথী বেগম
ইমোতে পরিচয়, এরপর প্রেম। সেই সম্পর্ক গড়ায় বিয়েতে। সংসারে আসে কন্যাসন্তান। কিন্তু ১০ মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে মাদারীপুর থেকে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় স্বামীর বাড়িতে এসে সাথী বেগম (২৯) জানতে পারেন, তাঁকে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 

এরই মধ্যে তাঁর স্বামী সুমন মিয়া (২৮) অন্যত্র বিয়ে করে নতুন স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সাথীর দাবি, স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর তিনি শিশুকন্যাকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে ফেরার জন্য কেন্দুয়ায় আসেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি শিশুকে নিয়ে কেন্দুয়া থানায় যান। 

পরে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পুলিশ তাঁকে শিশুসন্তানসহ সুমনের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, গত ২৩ সেপ্টেম্বর সুমন তাঁকে তালাকের নোটিশ দিয়েছেন।

সাথীর হাতে থাকা কাবিননামা ও তালাকের নোটিশের অনুলিপি এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। পাশাপাশি সুমনের বাবা মোহাম্মদ হাদীস মিয়াও তাঁর ছেলের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাথী জানান, ২০২৪ সালে ইমোর একটি চ্যাট গ্রুপের মাধ্যমে সুমনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সে সময় সুমন বিদেশে ছিলেন। যোগাযোগের একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাঁরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। সুমনের পাঠানো তালাকের নোটিশেও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে হয়।

তবে ২৩ সেপ্টেম্বর সুমনের স্বাক্ষর করা তালাকের নোটিশে সাথীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যার চেষ্টা, মারধর, হুমকি ও পরকীয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছে। এসব কারণ দেখিয়ে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। 

নোটিশে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৭(১) ধারার উল্লেখ রয়েছে এবং ৯০ দিন পর তালাকনামা রেজিস্ট্রি করে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাথীর বক্তব্য, তিনি এখনো স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চান। স্বামী অন্যত্র বিয়ে করলেও সন্তানসহ তাঁকে মেনে নিয়ে সংসারে থাকার সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর একমাত্র চাওয়া, ১০ মাসের শিশুকন্যাকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে থাকার অধিকার পাওয়া।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কেন্দুয়া থানার এসআই সাঈদ ও এসআই শ্রাবণ সাথী ও তাঁর শিশুকন্যাকে সুমনের বাড়িতে পৌঁছে দেন। তবে সেখানে সুমনকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানান, সুমন বাড়িতে নেই এবং বর্তমানে নতুন স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করছেন।

সুমনের বাবা মোহাম্মদ হাদীস মিয়া বলেন, “আমার ছেলের এই বিয়ে সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। আগে জানলে আমি তার দ্বিতীয় বিয়ে কখনোই করাতাম না।”

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম শুক্রবার বলেন, “মেয়েটি থানায় আসার বিষয়টি আমি জানি। তবে তিনি এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তাকে সার্বিক আইনি সহায়তা করা হবে।”

এদিকে সুমন মিয়ার বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। 


  বিষয়:   ইমো  নেত্রকোণা  স্বামীর বাড়ি 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত