শ্রীপুরে মাদকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ । ছবি-যাযাদি গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদক সেবনের বিস্তার ও ছিচকে চুরি রোধে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় নাগরিক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরের দিকে শ্রীপুর পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের লোহাগাছ গ্রামের রাজাবাড়ী-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর বাজারের ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম, সমাজসেবক মো. মানিক মিয়া, আব্দুল আউয়াল, সাহেব আলী, স্কুলের সহকারী শিক্ষক মাসুদ আলম, মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ, খোরশেদ মণ্ডল, তাহলিল জিম প্রমুখ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শ্রীপুরের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এসব এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এ নিয়ে শ্রীপুর বাজারের আশপাশে ও জিনাজালের পুলের পাড়ে মাদক বিক্রি ও মাদক সেবনকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সভা-সেমিনার করে আসছেন স্থানীয়রা। তবে এতে মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ তাঁদের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে পুলিশে দিলেও অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে তাঁরা কিছুক্ষণ পরই মুক্তি পেয়ে যান।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাদকের কারণে যুবসমাজ ধ্বংসের পথে যাচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম চরম হুমকির মুখে পড়বে।
তাঁরা বলেন, ‘মাদকাসক্তদের আজকে সতর্ক সংকেত দিলাম। পরবর্তীতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের বয়কট করা হবে।’
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা এলাকায় মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম যায়যায়দিনকে বলেন, ‘মাদক প্রত্যেক সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। ইতোমধ্যে আমরাও বেশ কিছু মামলায় মাদকের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনতাকেও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পুলিশকে সহায়তা করলে দ্রুতই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।