ছবি-যাযাদিদায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সম্প্রতি প্রত্যাহার হওয়া মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানের সময়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে জেলার ১৩৪টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স হালনাগাদ বা অনুমোদিত দেখানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সময়ে জেলার পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনহীন হিসেবে দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে জেলা শহরে দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম প্রকাশ্যে চলার অভিযোগও রয়েছে।
গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয়বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমানের দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। পরে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তাঁকে এক দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। বিষয়টি একাধিক সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডা. মো. মামুনুর রহমানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে মৌলভীবাজারের নতুন সিভিল সার্জনের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডা. মো. জাকির হোসেনকে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় চার মাস আগে ডা. মামুনুর রহমানের সময়ে দেওয়া এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ১৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ১১টি হাসপাতাল ও ৩৪টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ মোট ৪৫টি প্রতিষ্ঠানকে হালনাগাদ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রায় চার মাসের ব্যবধানে ১৩৪টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে অনুমোদিত হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই সময়ে মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনহীন হিসেবে দেখানো হয়েছে।
অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মৌলভীবাজার শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত সোনার বাংলা কিডনি ফাউন্ডেশন, শহরের জুগিঢর এলাকায় অবস্থিত সূর্যের আলো হাসপাতাল, সদর উপজেলার শেরপুর এলাকার আরহাম ডায়াগনস্টিক সেন্টার, কিউর ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং শেরপুর ইউনাইটেড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।
অল্প সময়ের ব্যবধানে জেলার বিপুলসংখ্যক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স হালনাগাদ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জেলার সচেতন মহলের অনেকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, কোনোভাবে সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
তাঁদের প্রশ্ন, এত অল্প সময়ে কীভাবে এতগুলো হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স হালনাগাদ করা হলো? প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো, চিকিৎসক, জনবল, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য শর্ত যথাযথভাবে যাচাই করেই কি এসব লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে? নাকি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এসব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে?
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আব্দুর রহিম রিপন বলেন, চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সেবার মান পর্যালোচনা না করে সিভিল সার্জন এভাবে অনুমোদন দিয়ে থাকলে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত পূরণ, সরেজমিন পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স হালনাগাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হলে এ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যেতে পারে।
সদ্য প্রত্যাহার হওয়া সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভাই, অনুমোদনহীন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম নিয়ে আমি ধরলে সমস্যা, আবার না ধরলেও সমস্যা। আপনি খবর নিয়ে দেখেন, ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর সবগুলোর মালিক এখন সরকারি দলের পরিচয় দেন। প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রিপোর্ট তৈরি করলে তারা ক্ষেপে যান।
তিনি আরও বলেন, শতভাগ নিয়মনীতি মেনে তাদের ধরলে একটি প্রতিষ্ঠানও লাইসেন্স পাবে না। প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা বলেন, আমি টাকা খেয়েছি, প্রতিষ্ঠানকে জিজ্ঞেস করে বের করেন, আমি কার কাছ থেকে টাকা খেয়েছি।