বেনাপোল কাস্টমসে এআরও মিজানুরের বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ

বেনাপোল প্রতিনিধি

সারাদেশ

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর চেকপোস্ট কাস্টমসে সদ্য যোগ দেওয়া সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট যাত্রীদের হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক

2026-10-02T18:00:10+06:00
2026-10-02T18:00:10+06:00
শুক্রবার ● ২ অক্টোবর ২০২৬
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
বেনাপোল কাস্টমসে এআরও মিজানুরের বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ
বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০০ পিএম  
সংগৃহীত ছবি
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর চেকপোস্ট কাস্টমসে সদ্য যোগ দেওয়া সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট যাত্রীদের হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক এই চেকপোস্টের স্ক্যানিং পয়েন্টে মাত্র দুই দিন আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি দেশি-বিদেশি পাসপোর্ট যাত্রীদের বিভিন্নভাবে ভোগান্তিতে ফেলছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বিশেষ করে ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরা অসুস্থ পাসপোর্ট যাত্রীরা তাঁর হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কাস্টমস স্ক্যানারে ব্যাগেজ পরীক্ষার পর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ওই কর্মকর্তা যাত্রীদের ব্যাগ টেনে ধরে টেবিলে মালামাল ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র বের করে দিচ্ছেন। স্ক্যানিং শেষ হওয়ার পরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রেখে যাত্রীদের বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।

এমনকি শারীরিকভাবে অসুস্থ বা সামর্থ্যহীন যাত্রীদের মালামাল পুনরায় ব্যাগে ভরে দিতে কোনো সহায়তা না করে তাঁদের দিয়েই ব্যাগ গুছিয়ে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরা বেনাপোল পোর্ট থানার ভবেরবেড় গ্রামের বাসিন্দা অসুস্থ পাসপোর্ট যাত্রী নুর ইসলাম তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কাস্টমস স্ক্যানিং পার হওয়ার সময় এআরও মিজানুর রহমান হঠাৎ আমার ব্যাগ টেনে ধরেন। এরপর এক ঘণ্টা আটকে রেখে একের পর এক অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে থাকেন। কেন ভারতে চিকিৎসা করাতে গেলাম, এ দেশে কি চিকিৎসা হয় না, অহেতুক অন্য দেশে টাকা ঢালার কী দরকার, এমন নানা প্রশ্ন করেন তিনি। আমার মতো আরও অনেক অসুস্থ ও সাধারণ যাত্রীকে তিনি একইভাবে হেনস্তা করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, স্ক্যানিং পয়েন্টে ওই কর্মকর্তার আচরণ ও যাত্রীদের হয়রানির ঘটনায় দায়িত্বে থাকা কাস্টমস সিপাহিদেরও হাসাহাসি করতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাস্টমসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী অভিযোগ করেন, ওই কর্মকর্তা যে কর্মস্থলেই যান, সেখানেই জটিলতা ও অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাঁর আচরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে দপ্তর ও সহকর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে আরও কয়েকজন যাত্রীও তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানি ও মৌখিক লাঞ্ছনার একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চেকপোস্ট কাস্টমসে সরেজমিনে গিয়ে এআরও মিজানুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। পরে তাঁর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

আন্তর্জাতিক এই সীমান্ত চেকপোস্টে অসুস্থ ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা এবং কাস্টমসের ভাবমূর্তি রক্ষায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পাসপোর্ট যাত্রীরা।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কাস্টমস সিপাহি দাবি করেন, মিজানুর রহমানের আচরণের কারণে সহকর্মীদের কেউ কেউ তাঁকে ‘ক্যানসার মিজান’ নামে ডাকেন। ওই সিপাহির দাবি, তিনি যে এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন, সেখানেই তাঁর আচরণ নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ ওঠে। তবে এই দাবির স্বাধীন কোনো সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
  বিষয়:   বেনাপোল স্থলবন্দর  কাস্টমস  পাসপোর্ট যাত্রী  যাত্রী হয়রানি 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত