হিলি খাদ্য গুদাম থেকে ৭০ বস্তা সরকারি ধান নিয়ে ট্রলি আটক, তদন্ত ছাড়াই ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ

দিনাজপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলি সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ৪০ কেজি ওজনের ৭০ বস্তা সরকারি ধান পাওয়ার ট্রলারে করে বের করে বিক্রির

2026-10-02T18:41:49+06:00
2026-10-02T18:41:49+06:00
শুক্রবার ● ২ অক্টোবর ২০২৬
১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
সারাদেশ
হিলি খাদ্য গুদাম থেকে ৭০ বস্তা সরকারি ধান নিয়ে ট্রলি আটক, তদন্ত ছাড়াই ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪১ পিএম  
হাকিমপুরে সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে বের করা ৭০ বস্তা ধানবোঝাই ট্রলি আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হয় । ছবি-যাযাদি
দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলি সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ৪০ কেজি ওজনের ৭০ বস্তা সরকারি ধান পাওয়ার ট্রলারে করে বের করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে গুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ধানগুলো পথিমধ্যে আটক করা হলেও পরে কোনো তদন্ত ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হিলি সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ধানগুলো জেলার পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার ভাদুরিয়া এলাকার একটি মিলে গোপনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথে বোয়ালদাড় বাজারের পূর্ব পাশে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় জনতা ধানবোঝাই ট্রলিটি আটক করে। এ সময় ট্রলির চালক ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তি সরকারি ধানের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।

এরপর বোয়ালদাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশে গ্রাম পুলিশ ধানবোঝাই ট্রলিটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় চত্বরে নিয়ে যায়। পরে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আতিকুর রহমান সেখানে উপস্থিত হন। তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট অটো রাইস মিল মালিকের দুই প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর ধানবোঝাই ট্রলিটি ছেড়ে দেওয়া হয়।

ট্রলির চালক ও সহকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানান, ধানগুলোর কোনো কাগজপত্র তাদের কাছে নেই। হিলির এলএসডি খাদ্য গুদাম থেকে ধানগুলো নেওয়া হয়েছে এবং নবাবগঞ্জের ভাদুড়িয়ার আমতলী এলাকার ফটিকের মিলে নেওয়া হচ্ছিল বলে জানান তারা।

গুদাম থেকে ধান বের করার সময় কোনো স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে মিল মালিকের দুই ম্যানেজার জানান, তারা দুজনই স্বাক্ষর করেছেন। তবে কখন স্বাক্ষর করেছেন, জানতে চাইলে তারা সময় বলতে পারেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আতিকুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তার কাছেও ধান পরিবহনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলেও তা দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ধান বের করে বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে হিলি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজেদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, ‘গুদাম থেকে যে ধান বের হয়েছে, সেগুলো ছাটাইয়ের জন্য মিলে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ওই মিল মালিক ছাটাইয়ের জন্য আরও ধান পাবেন।

তবে একটি সূত্রের দাবি, ছাটাইয়ের জন্য যেসব গুদাম থেকে ধান দেওয়ার কথা ছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে দেওয়া শেষ হয়েছে। এরপরও যে ধানগুলো গুদাম থেকে বের করা হয়েছে, সেগুলো গোপনে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছিল বলে সূত্রটির দাবি। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মনিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি এক ঘণ্টা পর বিষয়টি জানাবেন বলে জানান। পরে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো বক্তব্য দেননি।

এদিকে জব্দ করা ধান কীভাবে ছেড়ে দেওয়া হলো, সে বিষয়ে জানতে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ মিত্র চাকমার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
  বিষয়:   হাকিমপুর  সরকারি ধান  খাদ্য গুদাম  অনিয়ম 


সারাদেশ- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত