প্রকাশ: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৩ পিএম
ছবি-যাযাদিজয়পুরহাটের আক্কেলপুরে নাশতা করতে গিয়ে চেয়ারের পাশে রাখা ধান ব্যবসায়ীর পাচ লাখ টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদের সামনে এস এম হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ রেস্তোরায় গিয়ে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী ধান ব্যবসায়ী মো. লিটন হোসেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি নওগার ধামইরহাটে ট্রাকে করে ধান কিনতে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল ধান কেনার পাচ লাখ টাকা। পথে আক্কেলপুরে ট্রাক থামিয়ে চালক আলম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে এস এম হোটেলে নাশতা করতে যান।
লিটন হোসেনের ভাষ্য, নাশতা করার সময় টাকার ব্যাগটি পাশের একটি চেয়ারে রেখেছিলেন। নাশতা শেষে হাত ধুয়ে ক্যাশে বিল পরিশোধ করেন। এরপর পাশের একটি চায়ের দোকানে যান। সেখানে যাওয়ার পরই তার টাকার ব্যাগের কথা মনে পড়ে। দ্রুত রেস্তোরায় ফিরে এসে দেখেন, চেয়ারের পাশে রাখা ব্যাগটি নেই। তখন রেস্তোরার ক্যাশিয়ারও সেখানে ছিলেন না।
লিটন হোসেন বলেন, ‘চায়ের দোকানে যাওয়ার এক মিনিটের মধ্যেই ব্যাগটি উধাও হয়ে যায়। ওই সময় বাইরে থেকে কেউ রেস্তোরায় ঢোকেনি। পরে রেস্তোরার লোকজনের কাছে ব্যাগটি ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।
তার সঙ্গে থাকা ট্রাকচালক আলম হোসেন জানান, তার নাশতা আগে শেষ হওয়ায় তিনি পাশের চায়ের দোকানে গিয়ে বসেছিলেন। কিছুক্ষণ পর লিটন সেখানে এসে চায়ের অর্ডার করেন। তখন তিনি লিটনকে টাকার ব্যাগের কথা জিজ্ঞাসা করলে লিটন দ্রুত রেস্তোরাঁয় ফিরে যান।
পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর রেস্তোরার ক্যাশিয়ার মাহফুজা খাতুন (৫০), তার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২) এবং দুই কর্মচারী মিন্টু (৪০) ও আবিদকে (৩০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
আক্কেলপুর থানার এসআই বজলুর রশিদ বলেন, ঘটনাটি জানার পর পুলিশ রেস্তোরায় গিয়ে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। মালিকের স্ত্রী ও কর্মচারীদের কথাবার্তায় কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। তবে কেউ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
রেস্তোরার মালিক সোলাইমান আলী বলেন, সকালে নাশতার সময় রেস্তোরায় কিছুটা ভিড় ছিল। তিনি তার স্ত্রীকে ক্যাশে রেখে বাজারে গিয়েছিলেন। পরে ফিরে এসে পুলিশকে দেখতে পান। রেস্তোরার কেউ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। রেস্তোরা ও বাসায় খোজ করেও টাকা পাওয়া যায়নি। রেস্তোরায় কোনো সিসিটিভি ক্যামেরাও নেই।