ছবি- যাযাদি মানিকগঞ্জের শিবালয়ে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিবাড়ি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার তেওতা জমিদার বাড়ি প্রাঙ্গণে তেওতা ইউনিয়নবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ খেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়। খেলা দেখতে তেওতা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর। খেলার উদ্বোধন করেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরের সহধর্মিণী ও সমাজসেবক সায়লা কবীর।
শিবালয় উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এস এম বাবুল হোসেন বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুজাউদ্দিন বুলবুল, শিবালয় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রহমত আলী লাভলু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাজী মো. মিজানুর রহমান লিটন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন, তেওতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাজেদ মিয়াসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
খেলা শুরু হলে ঢোল-বাদ্যের তালে মুখর হয়ে ওঠে তেওতা জমিদার বাড়ির মাঠ। একে একে মাঠে প্রবেশ করেন লাঠিয়ালরা। হাতে লাঠি নিয়ে ছন্দময় কসরত, দ্রুত লাঠি ঘোরানো এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ প্রতিহত করার বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করেন তারা। লাঠিয়ালদের দক্ষতা ও নৈপুণ্যে মুগ্ধ হয়ে দর্শকেরা করতালি দিয়ে তাদের উৎসাহিত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এ জিন্নাহ কবীর বলেন, লাঠিবাড়ি খেলা গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম বাংলার লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়। তরুণদের বিভিন্ন ক্রীড়ামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার প্রসার ঘটাতে হবে।
আয়োজক ও দর্শনার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন পর তেওতায় এমন আয়োজন হওয়ায় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে লাঠিবাড়ি খেলা নিয়ে আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। নিয়মিত এ ধরনের লোকজ খেলার আয়োজন করা হলে গ্রামীণ ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতিও আরও জোরদার হবে বলে তারা মনে করেন।
উল্লেখ্য, লাঠিবাড়ি একসময় গ্রামবাংলার অন্যতম জনপ্রিয় লোকজ খেলা ছিল। বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব, মেলা এবং বিশেষ অনুষ্ঠানে এ খেলার আয়োজন করা হতো। আধুনিক বিনোদন ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার প্রভাবে ধীরে ধীরে এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার চর্চা কমে এসেছে। তেওতার এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেই হারিয়ে যেতে বসা লোকজ ঐতিহ্য নতুন করে মানুষের সামনে উঠে আসে।
খেলা শেষে, অংশগ্রহণকারী লাঠিয়ালদের উৎসাহিত করা হয় এবং আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।