প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫০ পিএম
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিক আনোজন সিভারাসা । ছবি: সংগৃহীতফেসবুকে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটুক্তি মন্তব্য করার অভিযোগে সৌদি আরবের আদালত ২৪ বছর বয়সী এক শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। আনোজন সিভারাসা নামের ওই শ্রমিকের জীবন রক্ষা এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আল-আহসা ফৌজদারি আদালত প্রথমে সাইবার অপরাধ আইনে আনোজনকে পাচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করেছিলেন। তবে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি প্রসিকিউটরদের আবেদনের পর আপিল আদালত সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়া আইনে বিচার পরিচালনা করে তার সাজা মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর আনোজনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়েকে। তিনি সরকারি উদ্যোগে রাজক্ষমা চাওয়ার আশ্বাস দেন। একই উদ্দেশ্যে সিনিয়র আইনজীবী উপুল কুমারাপ্পেরুমার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি আইনি দল সৌদি আরব সফর করছে।
ঘটনার সূত্রপাত শ্রীলঙ্কায় একটি হিন্দু তীর্থযাত্রার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে তৈরি ধর্মীয় বিতর্ক থেকে। সেখানে এক ব্যক্তি হিন্দু দেবতা নিয়ে কটূক্তি করলে আনোজন জবাবে তামিল ভাষায় মহানবী (সা.)-কে নিয়ে মন্তব্য করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পরে আনোজন ওই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়ে পোস্টটি মুছে দেন। তবে শ্রীলঙ্কা থেকে কয়েকজন তার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে ইমেইল পাঠানোর পর প্রতিষ্ঠানটি সৌদি পুলিশকে বিষয়টি জানায়। এরপর জুলাই মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে আনোজনের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে বলে তার পরিবার জানিয়েছে।
আনোজনের দণ্ড মওকুফের জন্য বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মীয় নেতারা যৌথভাবে আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কা সরকার কূটনৈতিকভাবে তার জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যালকোয়েস্ট ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অনলাইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সৌদি সরকারের এমন কঠোর সাজা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, সৌদি আরবে প্রায় এক কোটি বিদেশি শ্রমিক কাজ করছেন। ভাষাগত সমস্যা ও আইনি সহায়তার অভাবে এসব শ্রমিক দেশটির বিচারব্যবস্থায় ঝুকির মুখে পড়েন বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে।