কঙ্গোফেরত রোগীর শরীরে ইবোলা ভাইরাস, কেনিয়ায় প্রথম মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

কেনিয়ায় প্রথমবারের মতো প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি দেশটির নাগরিক, যিনি সাত বছর ধরে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডিআর

2026-10-06T21:25:18+06:00
2026-10-06T21:25:18+06:00
মঙ্গলবার ● ৬ অক্টোবর ২০২৬
২১ আশ্বিন ১৪৩৩
শিরোনাম:
আন্তর্জাতিক
কঙ্গোফেরত রোগীর শরীরে ইবোলা ভাইরাস, কেনিয়ায় প্রথম মৃত্যু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৫ পিএম  
ছবি: রয়টার্স
কেনিয়ায় প্রথমবারের মতো প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি দেশটির নাগরিক, যিনি সাত বছর ধরে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) বসবাস করছিলেন। কঙ্গোয় অসুস্থ হওয়ার প্রায় এক মাস পর দেশে ফিরে কয়েক দিনের মাথায় রাজধানী নাইরোবিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

কেনিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যাডেন দুয়ালে জানান, ওই ব্যক্তি কঙ্গো থেকে সড়কপথে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় যান। সেখান থেকে শনিবার একটি ফ্লাইটে নাইরোবি পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর এক আত্মীয় তাঁকে নাইরোবি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাকে করোনা মহামারির সময় তৈরি বিশেষ একটি আইসোলেশন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

আইসোলেশন কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জ্বর, কাপুনি, প্রচণ্ড ক্লান্তি ও দুর্বলতা, খাবার গিলতে ব্যথা এবং ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। ভ্রমণের ইতিহাস ও শারীরিক লক্ষণ দেখে চিকিৎসকেরা রক্তক্ষরণকারী জ্বরের সন্দেহ করেন। পরে নমুনা পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ‘বুন্দিবুগিও’ প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়।

সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মঙ্গলবার তাকে দাফন করার কথা রয়েছে।

ইবোলায় আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা অন্তত ২৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পরিবারের সদস্য ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন। একই ফ্লাইটে আসা আরও ২৩ যাত্রী ও চার ক্রু সদস্যকেও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনিয়াবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণবিধি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।

কঙ্গোয় বর্তমান প্রাদুর্ভাবের পেছনে মূলত বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস দায়ী। এ প্রজাতির বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত কার্যকর টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে চারটি টিকা তৈরির কাজ চলছে। গত জুলাইয়ে এর একটি মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, বমি বা অন্যান্য সংক্রমিত শারীরিক তরলের সরাসরি সংস্পর্শে এলে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাবে, কঙ্গোর বর্তমান প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৪৬৩ জন আক্রান্ত এবং ৪ হাজার ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি কঙ্গোর ইতিহাসে নথিভুক্ত সবচেয়ে বড় এবং বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাব।

এর আগে মে মাসে কঙ্গোর পাশাপাশি প্রতিবেশী উগান্ডাতেও ইবোলা ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে দুজনের মৃত্যু হয়। গত আগস্টে উগান্ডাকে ইবোলামুক্ত ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। এরপর থেকে রোগটির সব সংক্রমণ কঙ্গোতেই সীমাবদ্ধ ছিল।

চিকিৎসাবিষয়ক আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা মেদসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ের (এমএসএফ) জানিয়েছে, প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সংঘাতময় কঙ্গোয় রোগ পর্যবেক্ষণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ঘাটতির কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি পুরোপুরি জানা কঠিন।

এমএসএফ সতর্ক করে বলেছে, ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। নতুন শনাক্ত রোগীদের প্রায় ৪০ শতাংশই উত্তর কিভু প্রদেশের। রাজনৈতিক ক্ষমতা, জাতিগত উত্তেজনা ও মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দীর্ঘ সংঘাতের কারণে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইবোলা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
  বিষয়:   ইবোলা  কেনিয়া  কঙ্গো  বিশ্ব স্বাস্থ্য 


আন্তর্জাতিক- এর আরোও খরব 
সম্পাদক ও প্রকাশক : শফিক রেহমান
অফিস:
যায়যায়দিন মিডিয়াপ্লেক্স
৪৪৬ ই+এফ+জি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, ঢাকা ১২০৮
ইমেইল : [email protected]
বিভাগীয় ফোন:
অনলাইন নিউজ- ০১৩৩৫১০৭৭০১, ০১৫৭২১৭৩৭৭৭
বিজ্ঞাপন বিভাগ- ০১৯১২২৯২৩১৩, ০১৭১১১৭৫৩৩১
সার্কুলেশন বিভাগ- ০১৭১২৩৮০৩২৫, ০১৮৩৪৮০০৮৭৭
© ২০২৬ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত